দুই কমিশনারের চিঠি পেয়েও ব্যবস্থা নেয়নি ক্যাবিনেট সচিবালয়, আরটিআই তথ্যে শোরগোল

Three Election Commissioner Photo-SNS

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাজ নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের কাজ যে নিয়ম বহির্ভূত সেই দাবিও করেছিলেন তাঁরা বলে প্রকাশ্যে এসেছে খবর। সংবাদপত্রে সে খবর আগেই এসেছিল। এবার আরটিআই-এর মাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা সামনে এসেছে। আর এবার তাতে স্পষ্ট হল, ঠিক কী অভিযোগ জানানো হয়েছিল দুই কমিশনারের দেওয়া চিঠিতে। কেন ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না তাও সামনে এসেছে। সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর ওই চিঠির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করতে চায়নি ক্যাবিনেট সচিবালয়। তথ্যের অধিকার আইনে (আরটিআই) করা প্রশ্নের জবাবে এই তথ্যই জানা গিয়েছে।

এদিকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে আরটিআই’তে করা প্রশ্নের জবাব সবিস্তার তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার গত ২৯ জুলাই এই বিষয়ে পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছিলেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথনকে। কিন্তু সেই চিঠি নিয়ে সমাজকর্মী কমোডোর লোকেশ কে বাটরার প্রশ্নের জবাবে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হলেও সেটি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ওই পরিস্থিতিতে কোনও পদক্ষেপ করা বা নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করা যথাযথ হতো না বলে আরটিআই তথ্যে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মনীশ গর্গের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দুটি পৃথক চিঠি দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। পিটিআই রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই মনীশ গর্গ সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার, ডিরেক্টর জেনারেল এবং সম মর্যাদার অফিসারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনাররা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হলেও সমগ্র নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।’ আরটিআই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবালয় চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রধান ব্যক্তিগত সচিবের কাছে চিঠির প্রতিলিপিও পাঠিয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই চিঠিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেছে ক্যাবিনেট সচিবালয়।


তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ ‘স্বেচ্ছাচার’ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার। চিঠিতে সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল বলে আরটিআই নথি থেকে জানা যাচ্ছে। যে তথ্য সামনে এনেছে সংবাদসংস্থা। এই নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কেন নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টির মীমাংসা করতে পারল না? উঠছে প্রশ্ন।