লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশে চালু হতে পারে ‘সিএএ’

দিল্লি, ৩ জানুয়ারি – লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে চালু হতে পারে ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’ তথা ‘সিএএ’।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক সূত্রে এই খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। উল্লেখ্য, ২০১৯-এর শেষে সিএএ-তে রাষ্ট্রপতির সিলমোহর পড়লেও বিধি তৈরি হয়নি। তাই এখনও এই আইন কার্যকর করা যায়নি। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, এবার শীঘ্রই আইনের ধারা তৈরি হয়ে যাবে। আর তার পরই তা কার্যকর করা যেতে পারে। 
‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’-এর বিধিগুলি খুব তাড়াতাড়ি জারি করা করা হতে পারে। আইনটি কার্যকরের পাশাপাশি যোগ্যদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন এক সরকারি আধিকারিক। ২০১৯ সালে আইন তৈরি করা হলেও, চার বছর পার হয়ে  যাওয়ার পরও তা লাগু করা যায়নি। ২০১৯ সালে কেন্দ্রের তরফে নয়া নাগরিকত্ব ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রস্তাব আনা হয়। সিএএ বিলে বলা হয়, ২০১৫ সালের আগে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আগত অ-মুসলিম অর্থাৎ হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান, পার্সি, বৌদ্ধ নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে এই আইনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অ-মুসলিম সম্প্রদায়গুলিকে। এর ফলে বিজেপি সরকার প্রণীত এই আইন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীরা একে বৈষম্যমূলক আইন বলে  সরব হন। শেষ অবধি সংসদে পাশ হয়ে যায় এই বিল। আইনে পরিণত হলেও, সিএএ-র ধারাগুলি এখনও তৈরি হয়নি। এবার সেই ধারা নিয়েই কাজ শুরু করছে কেন্দ্র।
আগামী মে মাসে শেষ হবে ১৮ তম লোকসভার মেয়াদ। তার আগেই হতে পারে নির্বাচন। তাকে পাখির চোখ করে নির্বাচনী দিনক্ষণ ঘোষণা করার আগে ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদি সরকার। আইনের বিধিগুলি জনসমক্ষে আনতে সরকার প্রস্তুত বলে সরকারি আধিকারিক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, আইনটি লাগু করার আগেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সরকারি আধিকারিক। তিনি আরও জানান,  নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিধি প্রস্তুত। তৈরি অনলাইন পোর্টালও। পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে হবে, আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনও নথি চাওয়া হবে না।
গত ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাঘু করা নিয়ে সওয়াল করেছিলেন তিনি। এই আইন বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ বলে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানান। কেউ সরকারকে রুখতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সিএএ নিয়ে বরাবরই কেন্দ্রের বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “নাগরিক না হলে সকলে রেশন সহ অন্যান্য পরিষেবা পাচ্ছেন কীভাবে ? নাগরিকত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। এটা তো করা উচিত নয়।” তিনি থাকতে বাংলায় এই আইন চালু করা যাবে না বলে কেন্দ্রকে বার্তা দিয়েছেন তিনি।
 
বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ১৯৫৫ সালে দেশে নাগরিকত্ব আইন করা হয়। ১৯৫৫ সালের আইনে ২ নম্বর ধারায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালের সংশোধনীতে ২ নম্বর ধারাটি সংশোধন করে ২(১)বি যুক্ত করা হয়। সেই ধারায় বলা হয়- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানরা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর দলে পড়বে না। এই সংশোধনীটি আনার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে আগুন জ্বলে।  কিন্তু প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার আইন প্রত্যাহার করেইনি, বদলে তার ধারাগুলি তৈরি করা হচ্ছিল। এই আইন ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘সংবিধানের পরিপন্থী’ এই দাবি বারবার উঠে আসে আন্দোলনকারীদের মুখে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করায় কেন্দ্র জানায়, এই আইন পুরোপুরি বৈধ ও সাংবিধানিক।