মধ্যপ্রদেশের এক মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনেই চুরির ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। ভোপালের উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা ওই বাড়িতে কীভাবে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী বিশ্বাস সারাংয়ের সরকারি বাংলোতেই এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। লিঙ্ক রোড এলাকায় অবস্থিত এই বাড়ি টিটি নগর থানার অধীনে পড়ে, যেখানে সাধারণত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। মন্ত্রীর দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে এই চুরির ঘটনা ঘটলেও তা পরে ধরা পড়ে। বাড়ির স্টোররুমের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখে এক কর্মী সন্দেহ করেন। এরপর খতিয়ে দেখে বোঝা যায়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ওই স্টোররুম থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে।
চুরি যাওয়া জিনিসের মধ্যে রয়েছে মন্ত্রীর প্রাপ্ত বিভিন্ন পদক, স্মারক এবং সম্মাননা সংক্রান্ত নথি। এগুলির আর্থিক মূল্য যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে তাঁর জনজীবনের স্মৃতি হিসেবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা নির্বিঘ্নে ঢুকে চুরি করে পালাতে সক্ষম হয়েছে। এতে স্পষ্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে।
ঘটনার পর মন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে টিটি নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়, সেজন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হতে পারে। তদন্তকারীরা সব দিক খতিয়ে দেখছেন। এমনকি ভেতরের কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়েছে। একজন মন্ত্রীর বাসভবনে এমন নিরাপত্তা ভাঙন শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের একাংশের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।