বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ার অভিযোগ রাজ্যের

নির্বাচনের প্রাক্কালে ফর্ম ৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবারের পর বুধবারও সকাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে। একই সময়ে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ  জানানো হয়।

বুধবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও কীভাবে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। তাঁর দাবি, বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তি চলাকালীন এই ধরনের জমা পড়া প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। বিশেষ করে, একজন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়ার ঘটনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া আইনসিদ্ধ এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী, যে কেউ ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন, তবে তা যাচাই করে গ্রহণ বা বাতিল করার দায়িত্ব কমিশনেরই। পাশাপাশি, আপত্তি জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে—সেক্ষেত্রে ফর্ম ৭ জমা দেওয়া যেতে পারে।


দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী  মন্তব্য করেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির পর একটি নির্দিষ্ট ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীকালে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কোনও ব্যক্তি এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলে তাঁর ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে না।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে।