উত্তরপ্রদেশে ফের বুলডোজার অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার প্রশাসনের নিশানায় সমাজবাদী পার্টির জেলা কার্যালয়। সোমবার সকালে সীতাপুর শহরের টাউন হল চত্ত্বরে অবস্থিত প্রায় ২১ বছরের পুরনো দলীয় দপ্তরটি গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। চারটি বুলডোজার এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় গোটা ভবন।
প্রশাসনের দাবি, যে জমির উপরে দপ্তরটি তৈরি হয়েছিল সেটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত জমি। ২০০৫ সালে তৎকালীন পুরপরিষদের চেয়ারম্যান নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই জমি সমাজবাদী পার্টিকে বরাদ্দ করেছিলেন। পরে সেই বরাদ্দ বাতিল করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দলীয় অফিস চালানো হচ্ছিল। সম্প্রতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেয়। সেই নোটিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দলীয় নেতৃত্ব ভবনটি খালি করে দেয় বলে দাবি প্রশাসনের।
সোমবার ভোর থেকেই এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এরপর শুরু হয় ভাঙার কাজ। প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি জমি দখলমুক্ত করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
ভবিষ্যতে ওই জায়গায় একটি সরকারি কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এই পদক্ষেপে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। দলের নেতাদের অভিযোগ, আইন প্রয়োগের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘ ২১ বছর পুরনো একটি দপ্তরের বিরুদ্ধে হঠাৎ এমন তৎপরতার কারণ কী?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে একাধিক বুলডোজার অভিযানকে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগেই বাগপত জেলার একটি ৪০ বছরের পুরনো মসজিদও অবৈধ দখলের অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে সীতাপুরের এই ঘটনাকে অনেকে রাজ্যে চলা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন।
বুলডোজার অভিযানের পর টাউন হল চত্ত্বরের সেই অংশ এখন কার্যত খালি পড়ে রয়েছে। তবে প্রশাসনের দখলমুক্তি অভিযানে এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক এখনই থামছে না।