বাজেট ২০২৬-২৭-এ আয়ুর্বেদ, মেডিক্যাল ট্যুরিজম ও মানসিক স্বাস্থ্যে জোর, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি

New Delhi, Dec 07 (ANI): Union Finance Minister Nirmala Sitharaman speaks in the Rajya Sabha during the Winter Session of Parliament, in New Delhi on Thursday. (ANI Photo/Sansad TV)

আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসার, মেডিক্যাল ট্যুরিজমের উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব—এই বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে। রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলি করেন।

এ বছর বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে আয়ুর্বেদ চিকিৎসার উপর। বিদেশেআয়ুর্বেদ চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশে এইমসের ধাঁচে ৩টি নতুন ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ’ গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে এমন ১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

আয়ুষ ফার্মেসি ও ওষুধ পরীক্ষার কেন্দ্রগুলিকে উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গবেষণা ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে গুজরাতের জামনগরে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন সেন্টারকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বাজেটে বলা হয়েছে।


রাজ্যগুলির সহায়তায় কেন্দ্র ৫টি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব গড়ে তুলবে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে তৈরি এই হাবগুলিতে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, আয়ুষ কেন্দ্র, ডায়াগনস্টিক পরিষেবা, পুনর্বাসন ও পোস্ট-ট্রিটমেন্ট কেয়ার হবে।

উত্তর ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য ও ট্রমা কেয়ারের জন্য ‘নিমহানস ২.০’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়েছে। এটি বেঙ্গালুরুর মূল নিমহানস-এর আদলে তৈরি হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য রাঁচি বা উত্তর ভারতের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় অত্যাধুনিক চিকিৎসা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের প্রসার ঘটানো । পাশাপাশি রাঁচি ও তেজপুরের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির আরও উন্নয়ন করা এর লক্ষ্য। ন্যাশনাল টেলি মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামে বরাদ্দ ৪৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

জেলা হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা ও ট্রমা কেয়ার বিভাগের ক্ষমতা ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে, যাতে দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি ওষুধে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্র। বিরল রোগের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ওষুধও তালিকাভুক্ত করা হবে, ফলে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্ট, রেডিয়োগ্রাফার, ডায়াটিশিয়ান, ল্যাব টেকনিশিয়ান-সহ সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ১০টি নির্দিষ্টি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এছাড়া আগামী বছরে ১.৫ লক্ষ কেয়ারগিভার-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই সমস্ত ক্ষেত্রগুলি ছাড়াও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার বরাদ্দ ৮ হাজার ৯৯৫ কোটি থেকে বেড়ে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ মিশনে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

এ বারের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১,০৬,৫৩০.৪২ কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের জন্য ১,০১,৭০৯.২১ কোটি এবং স্বাস্থ্য গবেষণায় ৪,৮২১.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন, প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়াই এ বছরের বাজেটের লক্ষ্য বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।