সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিএসএফের গুলিতে ত্রিপুরায় মৃত্যু বাংলাদেশি যুবকের

Bangladesh Youth Killed Photo-SNS

ত্রিপুরার কৈলাসহরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হলো এক বাংলাদেশি যুবকের। মৃতের নাম তারা মিয়াঁ (২৪)। তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা এলাকার দশটেকি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আবার উত্তেজনা তৈরি হলো। ত্রিপুরার উনকোটি জেলা সীমান্তে ওই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে বিএসএফ জানিয়েছে, একদল সন্দেহভাজন পাচারকারী আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে টহলরত জওয়ানদের উপর হামলার চেষ্টা করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে শেষ পর্যন্ত গুলি চালাতে হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিএসএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাত ১২টা নাগাদ গৌরনগর আরডি ব্লকের মাগুরউলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৪৪ নম্বর সীমান্ত অঞ্চলে পাঁচ-ছ’জন বাংলাদেশি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানেরা তাঁদের বারবার সতর্ক করে থামানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে না যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জওয়ানেরা গুলি চালান। বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়াঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। বাকিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার মধ্যরাতের পর উনকোটি জেলার মাগরুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৭ নম্বর গেটের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাটি সীমান্তের ১৮৪৭ নম্বর বর্ডার পিলারের কাছাকাছি। তখন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল টহল দিচ্ছিল। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘দেহটি মর্গে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।’


কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা যারা করছিল তাদের কাছে কী ধরনের সামগ্রী ছিল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে উনকোটির পুলিশ সুপার ঋষভ জানান, একদল সন্দেহভাজন পাচারকারী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে সীমান্তের বেড়ার সামনের দিকে অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ। তারা টহলরত বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার চেষ্টা করে। পুলিশ সুপারের দাবি, ওই দলের কয়েকজনের হাতে লোহার দা এবং ক্রিকেট ব্যাট ছিল। সুতরাং জওয়ানদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি হয়েছিল। বিএসএফ প্রথমে গুলি না চালিয়ে অন্য উপায়ে ওই দলকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় এবং জওয়ানদের উপর হামলার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত নিয়ম মেনে গুলি চালানো হয়। সন্দেহভাজনরা বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যায়।