পহেলগাম হামলার কড়া নিন্দা ব্রিকসে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

PIC- SNS

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে পহেলগাম জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করলেন সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এবার সরাসরি রাষ্ট্রনেতাদের যৌথ ঘোষণাপত্রে হামলার নিন্দা করা হয়েছে।

পরপর দ্বিতীয় বছর ব্রিকসের কোনও সরকারি বিবৃতিতে পহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ উঠে এল। তবে গত বছর রাষ্ট্রনেতাদের সম্মেলন থেকে নয়, মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে হামলার নিন্দা করা হয়েছিল। এ বার সেই অবস্থান আরও এক ধাপ এগিয়ে রাষ্ট্রনেতাদের যৌথ ঘোষণায় জায়গা পেল।

ব্রিকস নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যে উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো হোক না কেন, কিংবা তার নেপথ্যে যে ব্যক্তি বা সংগঠনই থাকুক, কোনও ভাবেই তা সমর্থনযোগ্য নয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের দায়বদ্ধতার কথাও ফের তুলে ধরেছেন তাঁরা।


সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের যাতায়াত, সন্ত্রাসে অর্থের জোগান এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার মতো বিষয়গুলির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যৌথ ঘোষণায়।

একই সঙ্গে ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেছেন ব্রিকস নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠন এবং তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সাহায্য ও সমর্থনকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পক্ষেও জোরালো বার্তা দিয়েছে ব্রিকস। কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে আপস না করার পাশাপাশি সন্ত্রাস মোকাবিলায় দ্বৈত মানদণ্ডের বিরোধিতা করেছেন রাষ্ট্রনেতারা। অর্থাৎ একই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে এক ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ এবং অন্য ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে কম গুরুতর হিসেবে দেখার নীতিকে সমর্থন করা হবে না।

যৌথ ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলির প্রাথমিক দায়িত্ব রয়েছে। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। সন্ত্রাস দমনে ব্রিকসের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর কাজেরও প্রশংসা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান, সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিকস নেতারা। সন্ত্রাসের অর্থ জোগান বন্ধ করা থেকে শুরু করে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় রুখতে আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পহেলগাম হামলা নিয়ে ব্রিকসের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও ব্রিকসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে হামলার নিন্দা করা হয়েছিল। সেই বিবৃতিতেও সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সদস্য দেশগুলির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। এ বার রাষ্ট্রনেতাদের যৌথ ঘোষণায় একই বার্তা আরও স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় উঠে এল।