ভারতের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রাহ্মোস মিসাইলের আন্তর্জাতিক চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। অপারেশন সিঁদুরে ব্রহ্মসের কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা প্রদর্শনের পর একের পর এক দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবার ইন্দোনেশিয়াও ব্রহ্মস কেনার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত Shangri-La Dialogue-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশকুমার সিং জানান, ভিয়েতনামের সঙ্গে ব্রহ্মস রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, যদিও তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং খুব শীঘ্রই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার জানা অনুযায়ী, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া— উভয় দেশের সঙ্গেই আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে চুক্তি ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও এখনও তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।”
প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৫,৮০০ কোটি টাকার ব্রহ্মস চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মিসাইল ব্যাটারি, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে ভিয়েতনাম ব্রহ্মসের আরও উন্নত সংস্করণও কিনতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহ ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে দেশটি তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চায়। সেই লক্ষ্যেই ব্রহ্মসকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ফিলিপিন্স প্রথম বিদেশি ক্রেতা হিসেবে ভারতের কাছ থেকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করে। সেই চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা। এরপর ভিয়েতনাম এবং এখন ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহ ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় তৈরি অত্যাধুনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলগুলির অন্যতম। এর নির্ভুলতা, গতি এবং বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষমতাই আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের এই অস্ত্রকে বিশেষ গুরুত্ব এনে দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে আরও কয়েকটি দেশ ব্রহ্মস কেনার দৌড়ে সামিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।