ফের অশান্ত মণিপুর। দীর্ঘ এক মাস পরে অপহৃত হওয়া নাগা উপজাতির ছ’জনের দেহ উদ্ধার হল। দেহ উদ্ধারের পরেই জওহরলাল নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (জেএনআইএমএস) মর্গের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ হিমশিম খায়। পুলিশ শেষ পর্যন্ত কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গিয়েছে, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দেহগুলি জেএনআইএমএস মর্গে আনা হয়েছে। সেখানেই দেহগুলির ময়নাতদন্ত করা হবে। চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক মানুষ ও নিহতদের পরিবারের লোকেরা সেখানে জড়ো হন। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আজ নাগাদের সংগঠন বনধের ডাক দিয়েছে।
বুধবার মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশি চালানোর সময়ে ছ’জনের দেহ উদ্ধার হয়। এই নৃশংস ঘটনার নিন্দা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। সেইসঙ্গে এই ধরনের হিংসা আর মানা হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবেও তিনি জানিয়েছেন। মণিপুরের নাগা সম্প্রদায়গুলির শীর্ষ সংগঠন ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, লিয়াংমাই নাগা কাউন্সিলের সভাপতি টিমোথি উইজুনামেই সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দেহগুলি এখানে আনতে ২৮ দিন লেগে গেল। প্রশাসন যে এত দেরি করল তাতে আমরা অত্যন্ত হতাশ।’ সেইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, দেহগুলি কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সে সম্পর্কে পরিবারকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে, মণিপুর পুলিশ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের পরে ছ’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। অভিযানের সময়ে মণিপুর পুলিশ, সিআরপিএফ ও আসাম রাইফেলসের প্রায় ৪৫০ জন সদস্য, স্নিফার ডগ ও ফরেন্সিক দলের সদস্যরা ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী কাংপোকপি জেলায় থাদো সম্প্রদায়ের তিনজন চার্চ নেতাকে হত্যা করে। ওইদিনই মণিপুরের একাধিক এলাকায় নাগা জনজাতির ২০ জন ও কুকি সম্প্রদায়ের ২৮ জনকে অপহরণ করা হয়। এরপরে ১৫ মে নাগারা ২৮ জন কুকিদের মধ্যে ১৪ জনকে মুক্তি দেয়। অন্যদিকে, কুকিরাও ১৪ জন নাগাকে মুক্তি দেয়।