রক্তিম চাঁদের বিস্ময়, আজ সন্ধ্যায় আকাশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মহা আয়োজন

আজ সন্ধ্যায় আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। ৩ মার্চ ২০২৬-এ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে রক্তিম আভায় ঢেকে যাবে চাঁদ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই গ্রহণ সম্পূর্ণ নিরাপদ। খালি চোখে দেখা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও ধারণ—সবই করা যাবে নিশ্চিন্তে।

আজ বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। ভারতে মূল দৃশ্যমান পর্ব শুরু হবে প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে। সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিট থেকে ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ সবচেয়ে বেশি লাল আভা ধারণ করবে। সেই সময়ই দেখা যাবে প্রকৃত ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তচাঁদের মোহময় রূপ।

উত্তর-পূর্ব ভারতের আকাশ এ দিন সবচেয়ে পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গুয়াহাটি ও শিলিগুড়িতে চাঁদের লাল আভা স্পষ্ট দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কলকাতাতেও আকাশ পরিষ্কার থাকলে দর্শন মিলবে এই বিরল দৃশ্যের। তবে পশ্চিম ভারতের কিছু শহরে দৃশ্যমানতা তুলনামূলক কম হতে পারে। ভারতের বাইরে নিউ ইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, টোকিও, সিওল ও সিডনিতেও আকাশপ্রেমীরা উপভোগ করবেন এই মহাজাগতিক নাটক।


পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ায়। ফলে সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদের উপর পড়তে পারে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে প্রতিফলিত লাল আলো চাঁদের গায়ে পড়ে তাকে রক্তিম রূপ দেয়। এই বৈজ্ঞানিক কারণেই তৈরি হয় ‘ব্লাড মুন’।

তবে গ্রহণ ঘিরে নানা সংস্কার ও বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। বহু প্রাচীন ধারণায় গ্রহণকে অশুভ সময় হিসেবে ধরা হয়। বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া, নতুন বাড়ি কেনা, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করা বা নতুন কাজ শুরু করা থেকে অনেকেই বিরত থাকেন। জ্যোতিষীদের একাংশও এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যদিও বিজ্ঞান বলছে, এর কোনও প্রমাণিত ভিত্তি নেই—সবটাই ‘বিশ্বাস’।

অনেকের মতে, গ্রহণের সময় মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। কেউ কেউ অতিরিক্ত উত্তেজনা বা ক্লান্তি অনুভব করেন। আবার প্রচলিত ধারণায় ভারী খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত আহার এড়িয়ে চলা এবং অদ্ভুত ভঙ্গিতে না ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের সাবধানে থাকার কথা বলা হয়, যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর সরাসরি প্রমাণ মেলেনি।

আধ্যাত্মিক চর্চায় বিশ্বাসীরা এই সময় প্রার্থনা, ধ্যান বা শুদ্ধিকরণ প্রথা পালন করেন। ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলা, একা অজানা স্থানে না যাওয়া—এমন পরামর্শও শোনা যায়। দৈনন্দিন জীবনে ছোটখাটো দুর্ঘটনা, হঠাৎ দেরি বা আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও প্রচলিত আছে।

সব বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে আজকের সন্ধ্যা হতে চলেছে প্রকৃতির এক অনন্য প্রদর্শনী। তাই টেলিস্কোপ, দূরবীন, মোবাইল ক্যামেরা কিংবা শুধু নিজের চোখ—যা আছে তাই নিয়েই তাকিয়ে পড়ুন আকাশের দিকে। রক্তিম চাঁদের এই বিরল দৃশ্য আবার কবে দেখা যাবে, তা এখনই বলা কঠিন।