‘কংগ্রেসে আজও পরিবারতন্ত্র চলছে’

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ঘিরে ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ’ শুরু হয়েছে বলে রাহুলের দাবির তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের জাতীয় মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, দেশে জরুরি অবস্থার আশঙ্কা দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন কংগ্রেস নেতা।

বুধবার দিল্লিতে আদিবাসী কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, গোয়েন্দা সংস্থা এমনকি বিচারব্যবস্থার একাংশের মধ্যেও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে নানা তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

এর জবাবে শাহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর পরিবার জরুরি অবস্থার ইতিহাস বহন করে। তাই তিনি সর্বত্র জরুরি অবস্থার ছায়া দেখতে পান। দেশের সংবিধানকে একমাত্র ইন্দিরা গান্ধীর আমলেই পদদলিত করা হয়েছিল। তাই জরুরি অবস্থার কথা বলার আগে কংগ্রেসের নিজের ইতিহাস দেখা উচিত।’


বিজেপি মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, প্রকৃত সংকট দেশের মধ্যে নয়, বরং কংগ্রেস দলের ভেতরেই রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘কংগ্রেসে আজও পরিবারতন্ত্রের জরুরি অবস্থা চলছে। সেই কারণেই একের পর এক নেতা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। মানুষের মধ্যে বংশানুক্রমিক রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।’

রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলির উপর মানুষের আস্থা নষ্ট করার অভিযোগও তোলেন পুনাওয়ালা। তিনি বলেন, ‘ভারতের অর্থনীতি যখন বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম, তখনও রাহুল গান্ধী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। করোনা টিকার বিরোধিতা করেছেন, সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা করেছেন’

 

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর মতে, দেশে এক বড় অর্থনৈতিক সংকট আসন্ন, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার ফলে সরকারের উপর চাপ তৈরি হবে এবং তার প্রভাব পড়বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর।

রাহুল আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ভবিষ্যতে “জরুরি অবস্থার মতো” কোনও পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।