আচমকা আবহাওয়ার বদলে বিপর্যস্ত বিহার। ঝড়, প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন জেলায় এই দুর্যোগে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিরও খবর মিলেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাটনায় ২ জন, বেতিয়ায় ২ জন এবং বেগুসরাইয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাটনায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের অংশ ভেঙে পড়ে ওই দুই পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম ত্রিভুবন প্রসাদ সিনহা (৭৩) এবং অনিতা দেবী (৪৮)। রুকনপুরা দেবীস্থান এলাকার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
এছাড়া জেহানাবাদে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির জেরে একটি বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। বক্সারে একটি গাছ ভেঙে পড়ে একটি বৈদ্যুতিক যানের উপর, এতে ছয়জন যাত্রী জখম হন। ভোজপুরে প্রবল ঝড়ে মহুলি এলাকায় ভাসমান সেতু ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
সুপৌলে বজ্রপাতে একটি নারকেল গাছে আগুন লেগে যায়, যা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ শুরু হওয়া ঝড় মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই বহু এলাকায় বড়সড় ক্ষতি করে। প্রায় ২০টি জেলায় এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতির আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝড়, বজ্রপাত ও প্রবল হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে, এরপর ধীরে ধীরে ফের বৃদ্ধি পাবে। ১ মে পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। ২ মে কাটিহার, কিশনগঞ্জ ও পূর্ণিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। ৩ মে আরারিয়া, মধেপুরা, সহরসা ও সুপৌলেও একই পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।
৪ মে গোটা রাজ্যজুড়ে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।