বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন। সম্রাট চৌধুরী শপথ নিয়ে রাজ্যের ২৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এই প্রথমবার বিহারে সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হল, যা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাটনার লোক ভবনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন সম্রাট চৌধুরীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের কিছুক্ষণ পরেই জেডিইউ-র প্রবীণ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
শপথ গ্রহণের আগে সম্রাট চৌধুরী রাজবংশী নগরের হনুমান মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পাশাপাশি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের সূত্রপাত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ইস্তফার মাধ্যমে। তিনি রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিজেপির হাতে সরাসরি নেতৃত্বের পথ খুলে যায়।
সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৯০ সালে। ১৯৯৯ সালে তিনি বিহারের কৃষিমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে পারবত্তা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একাধিকবার জয়ী হন এবং ২০১০ সালে বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের পর থেকে তিনি বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসেন। ২০১৯ সালে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি হন। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্য সভাপতি করা হয়, যা তাঁর রাজনৈতিক উত্থানকে আরও মজবুত করে।
নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সম্রাট চৌধুরী এক প্রতীকী অঙ্গীকার করেন— মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ কুমার অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর ‘মুরাইঠা’ খুলবেন না। এই ঘটনাই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, বিজয় কুমার চৌধুরী দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। সমস্তিপুরের বাসিন্দা এই নেতা পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথম জীবনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কাজ করলেও পরে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব, যাঁকে কোসি অঞ্চলের রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। সুপৌল কেন্দ্র থেকে বারবার জয়ী হয়ে তিনি শক্তিশালী জনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং অভিজ্ঞ দুই উপমুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন সরকার এখন উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।