বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের ৩ সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে কীভাবে খুন করলে মৃত্যু নিশ্চিত হবে, শরীরের কোন অংশে ছুরির আঘাত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হতে পারে – এসব তথ্য জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জে কেনেথ। তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী শ্বেতাও এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কাডুগোডি এলাকায় শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুত্তুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়াকে খুন করা হয়। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তামিলনাড়ুর পুদুচেরি সংলগ্ন এলাকা থেকে কেনেথ ও শ্বেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, কেনেথ নিজেই ৩টি খুন করেন, আর শ্বেতা পুরো ঘটনায় তাঁকে সাহায্য করেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ৫৬ লক্ষ টাকার ঋণ। কেনেথের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং নানা শখ পূরণ করতে ওই বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন শ্বেতা। ঋণের কাগজপত্রে ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল শ্বেতার বাবা-মায়ের বাড়ির ঠিকানা। ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়ায় ব্যাঙ্ক থেকে একের পর এক নোটিস পৌঁছতে থাকে সেই বাড়িতে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের অঙ্ক জানতে পেরে মেয়ে ও কেনেথের কাছে এই বিষয়ে বারংবার জানতে চান সোমসুন্দর। তদন্তকারীদের দাবি, তখনই শ্বেতার মা ও বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন কেনেথ।
এরই মধ্যে শ্বেতা জানতে পারেন কেনেথের এক মহিলা সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি হলেও কেনেথ দাবি করেন, ওই মহিলা শুধু তাঁর স্টার্টআপ সংক্রান্ত কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা করছেন। কেনেথের কথায় বিশ্বাস করেন শ্বেতা। এরপরই দু’জনে মিলে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে , ২১ জুন রাতেই খুনের ছক কষেন কেনেথ। তদন্তকারীদের দাবি, ২২ জুন রাতে শ্বেতার বাবা, মা ও বোনকে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে আনেন কেনেথ। সোফায় বসে টিভি দেখছিলেন শ্বেতার মা, আচমকা তাঁকে একাধিকবার ছুরি মারেন কেনেথ। অভিযোগ, শ্বেতা তখন সামনেই দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলেন।
কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছন শ্বেতার বাবা ও বোন। দরজা খুলতেই সোমসুন্দরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন কেনেথ। তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেন, এমনকি করিডরে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকারও করেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে প্রতিবেশীদের তিনি জানান, তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে কেনেথ ও শ্বেতা। পুলিশ জানিয়েছে, বোন সুপ্রিয়াকে চেপে ধরে রাখতে সাহায্য করেন শ্বেতা, আর কেনেথ তাঁকে একের পর এক ছুরির আঘাত করে হত্যা করেন।
এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান শ্বেতা ও কেনেথ। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, এই মামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল, নিখুঁতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে অভিযুক্তরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নিয়েছিলেন। এআই-এর মাধ্যমে তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে ছুরির আঘাত প্রাণঘাতী হতে পারে এবং দ্রুত হতে পারে। তদন্তকারীরা ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে এই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শুধুমাত্র ঋণের কারণেই এই হত্যা, নাকি কেনেথের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আর্থিক লোভও এর কারণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।