ভোটের আগে তিন রাজ্যে ঢেলে সংগঠন সাজাল বিজেপি, নজরে মোদীর মন্ত্রীসভা

Photo-ANI

আগামী বছর একের পর এক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিজেপির সংগঠন ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারেও রদবদলের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। আর তা ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার পরই উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাতে নতুন ‘সেনাপতি’ নিয়োগ করেছে বিজেপি। এবার সেই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের পর নজর ঘুরেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীসভার দিকে। ভোটের সমীকরণ, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং সাংগঠনিক প্রয়োজন, সব মিলিয়ে সম্ভাব্য রদবদলের নকশা তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা।

মঙ্গলবার বিজেপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ইন-চার্জ করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওয়াড়েকে। কো-ইন-চার্জ হয়েছেন নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল। পাঞ্জাবের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যসভার সাংসদ সতীশ পুনিয়া। গুজরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ চুঘকে। আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের আগে তিন রাজ্যের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশে রয়েছে বিশেষ নজর। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির আসন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অযোধ্যাতেও পরাজয় গেরুয়া শিবিরকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই ঘাটতি মেরামত করে সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী করাই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পাঞ্জাবেও বিজেপি সংগঠন বিস্তার করে ক্ষমতার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। গুজরাতে দলের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।


এই সাংগঠনিক রদবদলের পরেই মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। গত কয়েক মাসে মন্ত্রীসভায় কয়েকটি পদ খালি হয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রীর রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও সামনে রয়েছে। সেই সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বে আসা কয়েকজন মন্ত্রীকে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে সরকারে রাখা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এই তালিকায় রয়েছেন পীযূষ গয়াল। সোমবার তাঁকে বিজেপির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। ফলে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মন্ত্রীসভায় থাকবেন কি না তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। একইভাবে পঙ্কজ চৌধুরী ও হর্ষ মালহোত্রাকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি করার পর তাঁদের মন্ত্রীসভার দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে জাতিগত ও আঞ্চলিক ভারসাম্যও সম্ভাব্য রদবদলের অন্যতম মাপকাঠি হতে পারে। বর্তমানে রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকলেও ব্রাহ্মণ প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দলিত এবং অতি-পশ্চাৎপদ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে বলে সূত্রের খবর। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড, গোয়া, পাঞ্জাব,  মণিপুর, গুজরাত ও হিমাচল প্রদেশেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে মন্ত্রীসভায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

‘টিম নবীন’ গঠনের পর বিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। তরুণ মুখকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় জায়গা দেওয়া হবে কি না, ভোটমুখী রাজ্যগুলির সামাজিক সমীকরণ মেনে নতুন মুখ আনা হবে কি না, নাকি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বর্তমান মন্ত্রীদেরই দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হবে, সব মিলিয়ে মোদী মন্ত্রীসভার সম্ভাব্য রদবদল এখন দিল্লির রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়।