সমাবর্তনে চিফ জাস্টিসকে বয়কটের জের, NALSAR-এর ২০২৬ ব্যাচের কাউকে অ্যাডভোকেট হিসেবে লাইসেন্স দেবে না বার কাউন্সিল

CJI Surya Kant (SNS)

দেশের প্রথম সারির আইন বিশ্ববিদ্যালয় নালসারে (NALSAR) স্নাতক হওয়া পড়ুয়াদের জন্য নেমে এল বড়সড় ধাক্কা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে (CJI Surya Kant) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন একদল পড়ুয়া। তারই জেরে এবার বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (Bar Council of India বা BCI) সিদ্ধান্ত নিল, ২০২৬ সালের গোটা ব্যাচের কাউকেই আপাতত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত (enrolment) করা যাবে না।

ঠিক কী ঘটেছিল

গত ২৩ জুলাই নালসারের প্রায় ৭০ জন পড়ুয়া, যাঁদের মধ্যে ছিলেন স্টুডেন্টস বার কাউন্সিলের (Students Bar Council) সদস্যরাও, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠান। তাতে তাঁরা অনুরোধ করেন, সমাবর্তনের প্রধান অতিথি হিসেবে যেন প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানো না হয়। পড়ুয়াদের আপত্তির কারণ ছিল, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সাম্প্রতিক একটি মামলায় বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য ও ভূমিকা। এরপরেই একে একে প্রধান বিচারপতির একাধিক কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়, যার মধ্যে ছিল মুম্বইয়ের টিআইএসএসের (TISS) সমাবর্তন এবং দিল্লির একটি স্মারক বক্তৃতাও।


বার কাউন্সিলের কড়া বার্তা

গোটা ঘটনায় রীতিমতো কঠোর অবস্থান নিয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র জানিয়ে দিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২০২৬ সালে নালসার থেকে আইনে স্নাতক হওয়া কোনও পড়ুয়াকেই কোনও রাজ্য বার কাউন্সিল আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে পারবে না। এর পাশাপাশি নালসারের উপাচার্যকে (Vice Chancellor) তিন দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, কারা এই প্রচার শুরু করেছিলেন, কারা তা ছড়িয়েছিলেন, কারা সমন্বয়ের কাজ করেছিলেন এবং কারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। সমাবর্তন বয়কট বা বাধাদানের ডাক দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রত্যেককে চিহ্নিত করারও নির্দেশ দিয়েছে কাউন্সিল।

কেন এত কড়া পদক্ষেপ

বার কাউন্সিলের যুক্তি, তদন্ত চলাকালীন যদি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবে চলতে থাকে, তাহলে গোটা তদন্তই অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। তাই সাময়িক ভাবে গোটা ব্যাচের তালিকাভুক্তি স্থগিত রাখাই শ্রেয় মনে করেছে কাউন্সিল। তবে একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা মানেই তিনি দোষী প্রমাণিত, এমনটা নয়।

পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্ক

আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করাচ্ছেন, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রধান বিচারপতিকে এভাবে প্রকাশ্যে বয়কটের মুখে পড়তে হল। নালসারের ছাত্র সংসদ এর আগেও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিল, এমনকি তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে বার কাউন্সিলের এমন কড়া পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা হিসেবে। আবার একটি অংশের মতে, এর মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। যথারীতি ক্ষোভের আগুন দ্রুত গোটা দেশের আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেই ছড়িয়ে পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

পশ্চিমবঙ্গ থেকেও প্রতি বছর বহু পড়ুয়া দেশের বিভিন্ন ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটিতে (National Law University) পড়াশোনা করতে যান, তার মধ্যে নালসারও অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত তাই রাজ্যের আইন পড়ুয়াদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদের সঙ্গে কেরিয়ার যুক্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব কতদূর গড়াতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে।