ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে আসছেন না তারেক রহমান! বরফ গলাতে আসরে দীনেশ

Bangladesh PM Tarek Rahaman Photo-SNS

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সময় থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেছে। তারপর গঙ্গা-পদ্মা দিয়ে অনেক জলই গড়িয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তখন থেকে সম্পর্ক যেন মেরামত হচ্ছিল বলে চাউর হয়। কিন্তু সেটা কতটা হয়েছে? এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ এবার ব্রিকস সম্মেলনের আসর বসছে ভারতে। সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আর তখন থেকেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও তারেক রহমান ভারতে আসবেন কিনা সেটা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। সূত্রের খবর,  তারেক রহমানের ভারতে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে নিজের দেশে ফিরবেন। আবার ভারতে বসে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনাকে বারবার বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। সেটা নিয়ে তেমন কোনও বিবৃতি বা উদ্যোগ দেয়নি নয়াদিল্লি। সুতরাং এই নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে নয়াদিল্লি-ঢাকার মধ্যে। তাহলে কি ভারত সফর বাতিল করবেন তারেক? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি তারেক রহমান না আসে ভারতে তাহলে তা ভারতের কাছে মোটেই ভাল বিজ্ঞাপন নয়।

এই পরিস্থিতির কথা বুঝতে পেরেই বরফ গলাতে আসরে নেমেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সোমবার তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তার আগে রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাতে কতটা বরফ গলেছে সেটা এখনও জানা যায়নি। কারণ কোনও তরফ থেকেই কিছু বলা হয়নি। তারেক-ত্রিবেদী সাক্ষাৎ এবং খলিলুর-ত্রিবেদী সাক্ষাতের পর ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসেন কিনা সেটাই দেখার। ভারতে আসার বিষয়ে কথা বলতেই দীনেশ ত্রিবেদী কথা চালাতে শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর।


তাছাড়া কদিন আগে শেখ হাসিনা রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তা নিয়েও বাংলাদেশ খুশি নয়। সেখানে ভারতে না আসার জন্য নানা কারণ রয়েছে তারেক রহমানের। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মেরামত করতে যে চেষ্টা দীনেশ ত্রিবেদী করেছেন তাতে তিনি আশার আলো দেখছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমার মতে, যদি দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনা হয় তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের পথ খোলে। এখানে কোনও নেতিবাচক দিক নেই। সবটাই ইতিবাচক।’