আখাউড়া সীমান্তে ভারতীয় তরুণীকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা বাংলাদেশ কাস্টমসের

স্টেটসম্যান ওয়েব ডেস্ক: গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রিপুরার আখাউড়া স্থল বন্দরে ঘটল এক অনভিপ্রেত ঘটনা। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতের এক তরুণীকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে সেদেশের কাস্টমস কর্মী। শুক্রবার এই অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন আখাউড়া অভিবাসনের আধিকারিক। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনা অনভিপ্রেত। যে ব্যক্তি এই কাজ করেছেন, তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা অভিবাসনে বদলি করা হয়েছে।

সীমান্ত পেরোনোর সময় চেকিংয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়া মদের জন্য ১০০০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন ওই কাস্টমস কর্মী। কিন্তু ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তরুণীর কাছে থাকা মদের বোতল খুলে জোর করে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন। এবিষয়ে তাঁরা বিচার চেয়ে বাংলাদেশের সরকারের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এই অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরই আখাউড়া স্থলবন্দরের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে বদলি করে বাংলাদেশের কাস্টমস বিভাগ।

সঞ্জিত সাহা বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই ২টি মদের বোতল এনেছিলাম। কিন্তু ১টি বোতলের জন্য আমাদের কাছে টাকা চায় কাস্টমসের একজন কর্মী। টাকা দিতে না চাইলে আমার বোনকে জোর করে মদ খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এর পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুবিচার চাই।’


জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সঞ্জিত সাহা ও ঐশী সাহা নামে ২ ভাই বোন ত্রিপুরার আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাঁদের দুই জনের ব্যাগে দুটি মদের বোতল পাওয়া যায়। যা নিয়ম মাফিক। অর্থাৎ বাংলাদেশে যেসব পর্যটকরা প্রবেশ করেন, তাঁরা মাথা পিছু একটি করে মদের বোতল নিয়ে যেতে পারেন। সেই মতো তাঁরা দুই জনে দুটি করে মদের বোতল নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেদেশের কাস্টমস কর্মী রুবেল তাঁদের নিয়ে যাওয়া ব্যাগপত্র পরীক্ষা করার সময় সেই মদের বোতল দেখে ১০০০ টাকা ঘুষের দাবি করেন। সঞ্জিত ও ঈশা সেই ঘুষ দিতে অস্বীকার করেন। তখন রুবেল একটি বোতল খুলে ভারতীয় নাগরিক ঐশীকে মদ খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই তাঁরা সেদেশের প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।