বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে, অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্দি জীবনযাপন করতে হলে, নিয়মমাফিক তার জামিন পাওয়াই নিয়ম বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। রবিবার জয়পুর সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়ে ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন তিনি। অভিযুক্ত ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে।তবে তিনি সেইসঙ্গে জানান, এই ধরণের মামলা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হলে তা গভীরভাবে বিবেচনা করা ও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
চন্দ্রচূড় স্পষ্ট জানান, তাঁর এই বক্তব্য একজন নাগরিক হিসেবে, বিচারপতি হিসেবে নয়। তাঁর কথায়, ‘দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়া প্রত্যেক অভিযুক্তের অধিকার। আমাদের বিচার ব্যবস্থায় নির্দোষ অনুমান করেই বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়।বিচারে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত্ই নির্দোষ। কারণ কেউ যদি ৫ বা ৭ বছর বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলে থাকেন এবং পরে নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে সেই হারানো সময় আর ফেরানো সম্ভব নয়।’
তবে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে বলে জানান প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, খুন বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কেউ জামিনে মুক্তি পেলে ফের সেই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা থাকে। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্ত জামিনে বেরিয়ে আদালতে হাজিরা এড়াতে পারেন বা পালিয়ে যেতে পারেন। তৃতীয়ত, জামিনে মুক্তির পর অভিযুক্ত মামলার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করতে পারেন, এমন সম্ভাবনা থাকলে সে ক্ষেত্রেও জামিন খারিজ হতে পারে।
এই তিনটি ব্যতিক্রম ছাড়া জামিন হওয়াই নিয়ম বলে মত প্রকাশ করেছেন চন্দ্রচূড়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনেক সময় নিরপরাধদের অপরাধীতে পরিণত করছে। আদালতের দায়িত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সত্যিই জড়িত কি না এবং দীর্ঘদিন আটক রাখা যুক্তিযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা। উল্লেখ্য, ইউএপিএ মামলায় ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম। এখনও ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।