নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতকাল শুরু হয়ে যাবে। তখন কুয়াশার দাপট দেখা যাবে। শীত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে শুরু হলেও তা চলবে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। এই তিন বা সাড়ে তিন মাসে কুয়াশার জেরে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এমন নজির আগেও দেখা গিয়েছে। তার জেরে বিমান যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়। এবার যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলিকে আগাম সতর্কতার নির্দেশ দিল অসামরিক বিমান মন্ত্রক। এখন থেকেই উপযুক্ত পদক্ষেপ করে সব ব্যবস্থা যাতে তারা নিয়ে রাখে তার জন্য এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
শীতকাল চলাকালীন কুয়াশার জেরে উড়ান বাতিল, লেট অথবা সময়সূচি পরিবর্তন হলে যাত্রীদের তা নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। এবার সেইসব সময়মতো জানানোর জন্য বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সামনের মরশুমে শীত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সেটা বোঝা যাবে। তাই আগে থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিমান সংস্থাগুলিকে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিজিসিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল বীর বিক্রম যাদব, এএআই-এর চেয়ারম্যান পুনীত কানসাল-সহ বিসিএএস, সিআইএসএফ, আইএমডি, দিল্লি বিমানবন্দর এবং একাধিক এয়ারলাইন্সের শীর্ষ কর্তারা।
শুধু তাই নয়, কুয়াশার জেরে বিমান দুর্ঘটনা পর্যন্ত ঘটতে পারে। সেদিক থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আসন্ন শীতের কথাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এদিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগাম প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর শীতকালে বিমান চলাচল নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। সেগুলি যাতে আর না হয় তার জন্যই এই বৈঠক। কেমন করে শীতকালে যাত্রীদের নিরাপদে বিমান পরিষেবা দেওয়া যায় তা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়। বিমান ছাড়তে দেরি হলে বা বাতিল হলে এসএমএস, ইমেল এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীদের আগাম সতর্ক করতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে যাত্রীরা বিমানবন্দরে আসার আগেই বিমানের সঠিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে হেল্পডেস্কে পর্যাপ্ত কর্মী রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া শীতকালে যে সমস্যা সামনে আসে তা হল, কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া। তাই তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিমান চলাচলের জন্য উপযুক্ত অবস্থা আছে কিনা সেটা তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থাকে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং বিমানবন্দর সংস্থাগুলিকে ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম ও রানওয়ে ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ পরিকাঠামো সম্পূর্ণ সচল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকী আবহাওয়া দপ্তরকে রিয়েল টাইম তথ্য সরবরাহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে বিমান যাত্রীদের সুবিধা বলে মনে করা হচ্ছে।