সিকিমে ভূমিধসে টানেলে আটকে মৃত কমপক্ষে ১১ শ্রমিক, উদ্ধারে বাধা বিষাক্ত গ্যাস আর বৃষ্টি

Image: ANI

প্রবল বৃষ্টির জেরে সিকিমে একটি নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। কমপক্ষে ১৫ জন বা তার বেশি শ্রমিক টানেলের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিকিমের পাকইয়ং জেলার সামারদুং (ঝোলুঙ্গে) এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢোকা যাচ্ছে না। তা ছাড়া বৃষ্টির জন্যও উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় টানেলে ভিতরে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কত জন শ্রমিক ভিতরে আটকে রয়েছেন সেই সংখ্যাটি স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন নামচির জেলাশাসক অনুপ তামাং। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নামচির পুলিশ সুপার সোনম দলমা ভুটিয়া জানিয়েছেন, ১৫ জন শ্রমিক ভিতরে আটকে রয়েছেন।

প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই টানেলটি সিকিমের প্রথম ডাবল-লেন টানেল ছিল। পূর্ব সিকিমের পাকইয়ং জেলার নামচি ও রংপো সংলগ্ন মামরিং এলাকায় কাজ চলছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিস্তা স্টেজ-৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত এই টানেলটি সিকিমের সঙ্গে নাথু-লা পাসের সংযোগকারী কৌশলগত পথ। টানেলটি চালু হলে গ্যাংটকমুখী পর্যটক এবং নাথু-লা পাসগামী সেনাবাহিনীর যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে।


টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই টানেলের ভিতরে ভূমিধসে আটকে পড়েন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে উদ্ধারকাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিথেন গ্যাসের লিখ। জানা গিয়েছে, যে অংশে শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন, সেখানে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।

টানেল থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে তাঁরা হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপরই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত বেরিয়ে আসেন। ঠিক কী কারণে ওই শব্দ হয়েছিল এবং তার জেরেই ধস নেমেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।