এক দিনে বৃষ্টির বলি অন্তত ১০, দেশজুড়ে ধস ও বন্যায় বাড়ছে বিপর্যয়

Photo: Representational Image

জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি আর এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ছিল আবহবিদদের। কিন্তু জুলাইয়ের শুরুতেই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। গোটা দেশে সক্রিয় হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। এই স্বস্তির মধ্যেও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিবৃষ্টি। সারা দেশে শুধু বৃহস্পতিবারই ধস, বন্যা, বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্ততপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু। কোথাও বজ্রপাতে, কোথাও দেওয়াল বা বাড়ি ধসে, আবার কোথাও জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন মানুষ। উত্তর থেকে পশ্চিম ভারত – টানা বর্ষণে একের পর এক রাজ্যে জনজীবন বিপর্যস্ত। পাহাড়ে ধস, সমতলে জলমগ্ন রাস্তা, ব্যাহত যান চলাচল, প্রবল বর্ষণে বন্ধ স্কুল – এককথায় বর্ষার দাপটে কার্যত নাজেহাল দেশ।


সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে। দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও ১৬০ মিলিমিটার পর্যন্তও বৃষ্টি হয়। ঝোড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়েছে গাছ, বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিকাশ মার্গ, দ্বারকা, মুনিরকা-সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু জল জমে যান চলাচল কার্যত থমকে যায়। তবে টানা বৃষ্টির জেরে দিল্লির বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স নেমে এসেছে ‘ভাল’ স্তরে।

 


উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশেও দুর্যোগের পরিস্থিতি। অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর জল বিপদসীমার উপরে বইছে। উত্তরকাশীতে ধস নামায় গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে চারধাম যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। হিমাচলে অন্তত ৭৫টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি জেলায় স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর বাড়ছে। গাজিয়াবাদ, মেরঠ, হাপুর, বুলন্দশহর-সহ একাধিক জেলায় স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বজ্রপাতে, দেওয়াল ধসে ও জলে ডুবে মৃত্যুর একাধিক ঘটনাও ঘটেছে।

 

মহারাষ্ট্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মুম্বাই, পুণে ও আশপাশের এলাকায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। মুম্বাই-পুণে ঘাট এলাকায় ধস নামায় একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। জুনের শুরু থেকে বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনায় রাজ্যে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুজরাতের সুরাতে কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। উদ্ধারকাজে নামতে হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। কেরলের ওয়েনাড়েও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ জন।

 

মৌসম ভবন সূত্রে খবর, ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ৩৮ শতাংশ। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রবল বর্ষণের জেরে সেই ঘাটতি কমে এখন ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, গোয়া, কোঙ্কণ উপকূল, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও উত্তর ও পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের পাশাপাশি লাগামছাড়া নগরায়নও এই ধরনের দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। আগামী কয়েক দিন দেশের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।