জম্মু-কাশ্মীর বরাবরই জঙ্গিদের কাছে সন্ত্রাস ছড়ানোর মোক্ষম স্থান। ভূস্বর্গকে যেভাবেই হোক অশান্ত রাখতে তারা বদ্ধপরিকর । সেই পথেই গত কয়েকমাসে জঙ্গি কার্যকলাপ লাগামছাড়া আকার নিয়েছে উপত্যকার। শোনা যাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে বড় কোনও পরিকল্পনা করছে পাকিস্তানের আইএসআই।
সম্প্রতি জানা গিয়েছে, জম্মু পাহাড়ি অঞ্চলে সীমান্ত পেরিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ জন জঙ্গি। পাক সেনার দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই জঙ্গিদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নাইট ভিশনস চশমা এবং উন্নত স্যাটেলাইট ফোন। পাশাপাশি আরও একটি তথ্য প্রকাশ্যে আসে জম্মুতে শুধু জঙ্গি নয় পাক সেনার একটি ব্যাটেলিয়নও ঢুকে পড়েছে। বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে পাকিস্তানের। তাদের মোকাবিলা করতেই এবার মাঠে নামছে অসম রাইফেলস।
উল্লেখ্য, ১৮৩৫ সালে সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি করেছিল অসম রাইফেলস। বর্তমানে এই বাহিনী অসম রাইফেলসের নিয়ন্ত্রণাধীন। ১৯৬২ সালে চিনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই বাহিনী।
তবে উত্তর দিতে পিছপা হয়নি ভারতও। জঙ্গি দমনে নানা সময় নানা ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। এবার উপত্যকা সামালাতে এবার রণকৌশলে বদল আনছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জম্মু ও কাশ্মীরের সন্ত্রাস দমনে এবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের প্রাচীনতম আধাসামরিক বাহিনীকে। জানা যাচ্ছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অসম রাইফেলসের দুটি ব্যাটিলিয়নকে পাঠানো হচ্ছে জম্মুর দায়িত্বে।
সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গলযুদ্ধে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই বাহিনী পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম অঞ্চলে জঙ্গিদের ‘মৃত্যুদূত’ হয়েই দাঁড়ায় এবার তারাই জম্মুতে সন্ত্রাসীদের জন্যও যম হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে মণিপুরের দায়িত্বে থাকা এই দুই ব্যাটেলিয়নকে তুলে এনে সাম্বা সেক্টরের উত্তরে মাচেদিতে মোতায়েন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে যেভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাক জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে এবং ফের জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়েছে তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। এই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় এবার দেশের প্রাচীন আধাসামরিক বাহিনীর উপর ভরসা রাখতে চাইছে কেন্দ্র।
অসম রাইফেলসকে জম্মুতে নিযুক্ত করার পিছনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, উত্তর-পূর্বের ভৌগলিক অঞ্চলের সঙ্গে অনেকখানি সাদৃশ্য রয়েছে জম্মুর ওই অঞ্চলের। উত্তর-পূর্বের নাগরিকদের নিয়ে গড়া অসম রাইফেলসের অফিসার এবং জওয়ানদের পক্ষে কাজ করা বিএসএফ বা সিআরপিএফের মতো অন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর চেয়ে সহজ হবে। পাশাপাশি, অসম রাইফেলস জম্মুতে নিযুক্ত হলে কাশ্মীরের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় রাইফেলস বাহিনীকে আর জম্মুতে পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে না। এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাশ্মীরে নিযুক্ত বাহিনীর রণকৌশলের সঙ্গে জঙ্গিদের পূর্ব পরিচয় থাকলেও অসম রাইফেলস একেবারে নতুন, ফলে তাঁদের পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত সন্ত্রাসবাদীরা।