পাল্টা-শুল্কের ধাক্কায় এশিয়ার শেয়ার বাজারে ধস

প্রতীকী চিত্র

আমেরিকার পাল্টা শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্বব্যাপী মুখ থুবড়ে পড়ল শেয়ার বাজার। বিশেষত, এশিয়ার বাজারে শুল্ক আরোপের জেরে বড়সড় পতন হয়। শেয়ার বাজারের ধসের পাশাপাশি লাফিয়ে বাড়তে থাকে সোনার মূল্য। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোনার দাম আউন্স প্রতি ৩ হাজার ১৬০ ডলার, অর্থাত ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৮ টাকা ছাড়ায় যা রেকর্ড।  চিন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের শেয়ার বাজার ধরাশায়ী হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক বৃদ্ধির হার ২.৬ শতাংশ থেকে কমে ২.৩ শতাংশে দাঁড়ায়। আমেরিকার মূল্যবৃদ্ধির হার কমে হয়  ১.৫ শতাংশ।  

দিনের শুরুতে পতন হয় ভারতীয় শেয়ার বাজারেও। বৃহস্পতিবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের ৩০টি শেয়ার সেনসেক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গে ৫০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। যেখানে একদিন আগে বুধবার এটি ৭৬, ৬১৭ এ বন্ধ হয়েছিল। এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার প্রাথমিক লেনদেনে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটিও ২০০ পয়েন্ট কমে ২৩,১৫০.৩০ এ খোলে।  
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করে। তবে, ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দাম বেড়েছে। বুধবার ট্রাম্প বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন। কোনও দেশের উপর ২০, কারও উপর ২৫, আবার কোনও কোনও দেশের উপর ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করেছে আমেরিকা, যার প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজারে।
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর আরোপের ফলে ভারতের আইটি সেক্টরেও বড় পতন এসেছে। নিফটি ব্যাঙ্ক, নিফটি অটো, নিফটি পিএসইউ, নিফটি এফএমসিজি, কনজিউমার ডিউরেবলস, নিফটি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সেক্টরে বড় পতন এসেছে এদিনের বাজারে। তবে ফার্মা স্টকগুলিতে আবার উত্থান দেখা গিয়েছে।
 
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ট্রাম্পের ঘোষণার জেরে টোকিয়োর নিক্কেই প্রাথমিক ভাবে ৩.৯ শতাংশ হ্রাস পায়। যদিও পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।  জাপানের উপর ২৪ শতাংশ, ‘বন্ধু’ দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার উপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। যার প্রভাব পড়েছে সে দেশের শেয়ার বাজারে। হংকং, সাংহাইয়েও একই প্রভাব পড়ে। কোথাও পতনের হার ১.৫ শতাংশ, আবার কোথাও ১.৪ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা দ্রব্যের ওপরে ২৫ শতাংশ। আমেরিকা ছাড়া অন্য যে কোন দেশের গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই ‘পাল্টা শুল্ক’ কার্যকর হবে। ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, আমেরিকার জনগণের জন্য যাতে শ্রেষ্ঠ শুল্ক চুক্তি করতে দিনভর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হলে মার্কিন অর্থনীতিতে কী রকম এবং কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। হোয়াইট হাউসের তরফে  জানানো হয়েছে, কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধান শুল্কের হার কমানোর আর্জি জানিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই তাতে সাড়া দেবেন ট্রাম্প।