নীতি আয়োগের ভাইস-চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী, সদস্য গোবর্ধন দাস

বাঁ দিকে: বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাস, ডানদিকে: অর্থনীতিবিদ তথা বাংলার বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। ফাইল চিত্র

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্তরে দুই কৃতি বাঙালিকে বড় দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশের শীর্ষ নীতি নির্ধারণকারী সংস্থা নীতি আয়োগের পরবর্তী ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক কুমার লাহিড়ীর নাম উঠে আসছে। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন সুমন কে বেরি। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে, একই সঙ্গে বাংলার আর এক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকে নীতি আয়োগের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে। এই দুই নিয়োগ কার্যকর হলে দেশের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাঙালির উপস্থিতি আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


অশোক লাহিড়ী দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন এবং একাধিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক স্তরেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। তবে এবারের নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেনি তাঁর দল।

অন্যদিকে, গোবর্ধন দাস একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে অধ্যাপনা করেছেন এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যদিও জয় পাননি।

নীতি আয়োগ দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই জায়গায় এই দুই বাঙালির অভিজ্ঞতা যথেষ্ট কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলায় তীব্র ভোট লড়াই চলাকালীন এই সম্ভাব্য নিয়োগ কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।