নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুকে আপাতত কোনও স্বস্তি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে রাজ্যকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আসারাম। ২০১৮ সালে ওই মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে ২৭ মে রাজস্থান হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চও সেই সাজা বহাল রাখে। এরপর সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেন ৯০ বছরের আসারাম।
বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সরকারের বক্তব্য না শুনে এখনই জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত স্পষ্ট বলেছে, রাজ্যের অবস্থান জানার পরই বিবেচনা করা হবে আসারামের শারীরিক পরিস্থিতি কতটা গুরুতর বা তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার প্রয়োজন কতটা। এজন্য রাজ্য সরকারকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে এর মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে নতুন করে আবেদন করার সুযোগও খোলা থাকছে।
উল্লেখ্য, যোধপুর মামলার পাশাপাশি গুজরাতের গান্ধীনগর আশ্রমে এক তরুণীকে যৌন হেনস্থার মামলাতেও আসারাম দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ওই মামলাতেও তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই দ্বিতীয় মামলাটি ছিল সুরাটের এক তরুণীকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে আহমেদাবাদের মোতেরা আশ্রমে একাধিকবার যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের। অতীতেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একাধিকবার জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালত সেই আবেদন খারিজ করেছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কয়েকবার অন্তর্বর্তী জামিন ও প্যারোলও পেয়েছিলেন এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু।