প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের চলে যাওয়ার ফলে যে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, তা শুধু সংগীতজগতেই সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর ঘনিষ্ঠ মানুষদের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘদিন যাঁরা শিল্পীর সঙ্গে থেকেছেন, তাঁদের কাছে তিনি শুধুই তারকা নন, ছিলেন পরিবারের একজন মহীরুহ।
প্রায় চার দশক ধরে আশা ভোঁসলের বাড়িতে কাজ করা সুনম সালভে আবেগঘন কণ্ঠে জানালেন, ‘আমি তাঁর বাড়িতে কাজ করতাম। এত বড় শিল্পী হয়েও তিনি কখনও অহংকার করেননি। আমার মতো বস্তির গরিব মানুষকেও ভীষণ সম্মান দিতেন।’ সুনমের কথায় উঠে আসে শিল্পীর মানবিক দিকও। বলেন, ‘তিনি আমার গ্রামেও গিয়েছিলেন। যখনই ছুটি চেয়েছি, কখনও না বলেননি। আমাদের মতো মানুষদের জন্য তাঁর দরজা সবসময় খোলা ছিল।’
প্রসঙ্গত, ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার তাঁকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক প্রতীত সামদানির কথায়, ‘একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ স্বাভাবিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন সুনম। তিনি বলেন, ‘গত আট দিন আমি বাড়িতেই ছিলাম। আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি’।
অন্যদিকে, প্রয়াত লতা মঙ্গেশকরের বাড়িতে কাজ করা পুষ্পা নাওয়ারও স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘লতা দিদির সঙ্গে কাজ করতাম। তাঁর মৃত্যুর পর কাজ ছেড়ে দিই। আশা দিদিও খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারের মতোই দেখতেন।’ একজন শিল্পীর মৃত্যু হয়তো একটি যুগের অবসান ঘটায়, কিন্তু তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের মনে।
আশা ভোঁসলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে মুম্বাইয়ের লোয়ার পারেলের বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো যাবে। বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তারকাও সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁকে।