প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী এ পি মজিদ খান প্রয়াত, শোকস্তব্ধ কেরল

কেরল ও তামিলনাড়ুর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী এ পি মজিদ খান প্রয়াত। মঙ্গলবার তিরুবনন্তপুরমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। এ পি মজিদ খান ছিলেন নূরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং নূরুল ইসলাম ট্রাস্টের অধীনে প্রায় ২০টি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার নেয়ারাট্টিনকারার কাছে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

নেয়াট্টিনকারার ভেল্লামকুলাম বাংলোতে আলিসান মুহাম্মদ ও সালমাবিবির ঘরে জন্ম নেওয়া মজিদ খানের জীবন ছিল সংগ্রাম, নিষ্ঠা ও মানবসেবার অনন্য উদাহরণ। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি কেরল ও তামিলনাড়ু জুড়ে শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবার এক বিস্তৃত পরিকাঠামো গড়ে তোলেন।

কারিগরি শিক্ষায় বেসরকারি উদ্যোগ তখন প্রায় অকল্পনীয়— সেই সময়ই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অমরাভিলা নূরুল ইসলাম আইটিআই, যা কেরলের প্রথম বেসরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে। এই উদ্যোগ অসংখ্য যুবকের কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়।
এর পর একে একে গড়ে ওঠে ইঞ্জিনিয়ারিং, কলা, বিজ্ঞান, পেশাদারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার একাধিক প্রতিষ্ঠান। কন্যাকুমারি জেলায় প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ওই অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রই বদলে দেন মজিদ খান।


তবে শুধু প্রতিষ্ঠান গড়াই নয়, তাঁর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল বিনয় ও সরলতা। বিপুল প্রভাবশালী অবস্থানে থেকেও তিনি সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। নব্বই পেরিয়েও প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মী ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। গত বছর নভেম্বর মাসে অসুস্থ হওয়ার পরই কেবল তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্মে ছেদ পড়ে।

দরিদ্র পড়ুয়াদের পড়াশোনার খরচ বহন, আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা— নীরবে, প্রচারবিমুখ ভাবেই এসব কাজ করে গিয়েছেন মজিদ খান। নূরুল ইসলাম এডুকেশনাল ট্রাস্টের সুবর্ণজয়ন্তীতে স্থাপিত নেয়ারাট্টিনকারা নিমস মেডিসিটি তাঁর সেই মানবিক দর্শনেরই প্রতিফলন।

নীরব নেতৃত্ব, গভীর মানবিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা— এই তিনের মেলবন্ধনেই এ পি মজিদ খানের জীবন সমাজ পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।