আইসিএসই ও আইএসসির পরীক্ষায় বাংলার জয়জয়কার, দ্বাদশে দেশজুড়ে প্রথম বাংলার মেয়ে অনুষ্কা ঘোষ

আইসিএসই এবং আইএসসি পরীক্ষায় এবার বাংলার জয়জয়কার। আইএসসি-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় দেশজুড়ে প্রথম বাংলার মেয়ে অনুষ্কা ঘোষ। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা এবং সেন্ট জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ছাত্রী। ৫০০-র মধ্যে ৫০০ পেয়ে নজির গড়েছেন অনুষ্কা। ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও কম্পিউটার সায়েন্স, প্রতিটি বিষয়েই ১০০-এ ১০০ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইলেও তাঁর প্রধান শখ কবিতা ও গল্প লেখা।

অনুষ্কা ছাড়াও আইএসসি পরীক্ষা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন নিউ গড়িয়ার বাসিন্দা ইলিনা রাজকুমার উদানি। আনন্দপুর দি হেরিটেজ স্কুলের ছাত্রী। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ইলিনা ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান।  ছোট থেকেই গল্প ও কবিতা লেখায় নেশা রয়েছে তাঁর। ইলিনা ইংরেজি, ঐচ্ছিক ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান এবং গণজ্ঞাপন চারটি বিষয়েই ১০০তে ১০০ পেয়েছেন। ইংরেজি-সহ সেরা তিন বিষয় ধরে হিসেব করলে ৪০০-এ ৪০০ পেয়েছেন। ইলিনার ইতিমধ্যে একটি কবিতার বইও প্রকাশ পেয়েছ। দিল্লির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হতে চান ইলিনা। তাঁর এই ফলে খুশি হেরিটেজ স্কুলের অধ্যক্ষা থেকে সকলেই।

অন্য দিকে দশম শ্রেণির আইসিএসই-তে  রামমোহন মিশন হাইস্কুলের অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছে ৫০০-র মধ্যে ৪৯৯। বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ইতিহাস-সিভিকস-ভূগোলে অর্কদীপ ১০০-এ ১০০ পেয়েছে। ইংরেজিতে পেয়েছে ৯৯। পদার্থবিদ্যা, গণিত ভালোলাগার বিষয়। তবে ভবিষ্যতে কম্পিউটার নিয়েই পড়াশোনা করতে চায় সে। কম্পিউটার সায়েন্স, বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েই পড়তে চায় অর্কদীপ।


দশম শ্রেণির পরীক্ষায় মর্ডান হাইস্কুল ফর গার্লসের নন্দিনী শীল ৯৯.৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। অন্যদিকে জোকার বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের পড়ুয়া সুজাত পাল দ্বাদশে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজিতে ১০০- তে ১০০ পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে গণিতজ্ঞ হতে চায় সুজাত। ওই একই স্কুলের আর এক ছাত্র, বাঘাযতীনের বাসিন্দা অভিনব দাসও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং গণিতে ১০০-এ ১০০ পেয়েছে। ইংরেজিতে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৯ এবং বিজ্ঞানেও পেয়েছে ৯৮।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়  দশম শ্রেণির আইসিএসই এবং দ্বাদশ শ্রেণির আইএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। চলতি বছরে এই দুই পরীক্ষায় মোট ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৭ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দেয়। এর মধ্যে আইসিএসই পরীক্ষায় ২,৯৫৭টি স্কুল থেকে ২,৫৮,৭২১ জন এবং আইএসসি পরীক্ষায় ১,৫৫৩টি স্কুল থেকে ১,০৩,৩১৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।

ফলাফলে দেখা গিয়েছে, দুই পরীক্ষাতেই পাশের হার ৯৯ শতাংশের বেশি। আইএসসি পরীক্ষায় মোট পাশের হার ৯৯.১৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.৪৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৯৮.৮১ শতাংশ। অন্যদিকে আইসিএসই পরীক্ষায় মোট পাশের হার ৯৯.১৮ শতাংশ; ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.৪৬ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৯৮.৯৩ শতাংশ। দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীদের ফল তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইএসসি পরীক্ষায় ৫৪,১১৮ জন ছাত্র (৫২.৩৮%) এবং ৪৯,১৯৮ জন ছাত্রী (৪৭.৬২%) অংশ নেন। আইসিএসই পরীক্ষায় ১,৩৭,৫০৩ জন ছাত্র (৫৩.১৫%) এবং ১,২১,২১৮ জন ছাত্রী (৪৬.৮৫%) পরীক্ষায় বসেন।

অঞ্চলভিত্তিক ফলাফলে দ্বাদশ শ্রেণির আইএসসি পরীক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলি সর্বোচ্চ পাশের হার (৯৯.৮৭%), তার পরেই রয়েছে পশ্চিমাঞ্চল (৯৯.৫৫%)। অন্যদিকে আইসিএসই পরীক্ষায় পশ্চিমাঞ্চল শীর্ষে (৯৯.৮৫%), এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চল (৯৯.৮১%)।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। আইএসসিতে ৩০৫ জন লার্নিং ডিফিকাল্টি থাকা পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন এবং ২২ জন দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। আইসিএসইতে ১,৩১৩ জন লার্নিং ডিফিকাল্টি থাকা পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩২ জন এবং ৫৪ জন দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছে।

বোর্ড জানিয়েছে, ১ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত পড়ুয়ারা খাতা রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। ইমপ্রুভমেন্ট এগজামিনেশন দেওয়ার জন্য রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ৮ থেকে ১৪ মে-র মধ্যে। রিভিউয়ের ফলপ্রকাশ হবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। ফের পরীক্ষা হবে ১৫ জুন এবং তার ফলপ্রকাশ হবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে, এমনই জানানো হয়েছে।