নিট বিতর্কের আবহে মৃত্যু আরও ১ পড়ুয়ার, তামিলনাড়ুতে বাড়ছে ক্ষোভ

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিট পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এল। ঘটনাটি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাতোরে। মৃতের নাম অনুকীর্তনা (১৯)। পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার অনুকীর্তনার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে জ্ঞানহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অনুকীর্তনার দেহ পাঠানো হয়েছে।

পরিবার সূত্রের খবর, অনুকীর্তনা উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ করেছিলেন। তিনি বরাবরই একজন ভাসো চিকিৎসক হতে চাইতেন। সম্প্রতি তিনি নিটের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তিও হয়েছিলেন। নিট পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করার পরে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হবেন বলেও অনুকীর্তনা ঠিক করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের জেরে পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। তারপর থেকে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

পরিবার সূত্রের খবর, বুধবার অনুকীর্তনা তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই মেসেজে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি নিট পরীক্ষায় বসেছিলাম। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু এখন আবার আমি পরীক্ষায় বসতে ভয় পাচ্ছি। আমার বাবা আমার পড়াশোনার পিছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। আমি জানি না এখন আমি কী করে বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াব?’


পুলিশ সূত্রের খবর, অনুকীর্তনার কাছ থেকে মেসেজে ওই বার্তা পাওয়ার পরেই পরিবারের লোকেরা দ্রুত তাঁর বাড়িতে পৌঁছয়। দরজা খোলার পরে তাঁরা অনুকীর্তনাকে অচৈতন্য অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসা চলাকালীন হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ অনুকীর্তনার মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

অনুকীর্তনার মৃত্যুর পরেই কোয়েম্বাতোরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পড়ুয়া, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠন নিট পরীক্ষাব্যবস্থার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান। দীর্ঘদিন ধরেই তামিলনাড়ু সরকার নিট পরীক্ষার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, এই পরীক্ষা গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হয়ে যায়। এনটিএ বা জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা ২১ জুন আবার পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে একের পর একে পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।