পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র উত্তেজনার আবহে ভারতের জন্য স্বস্তির খবর। হরমুজ পেরিয়ে খোলা সমুদ্রে প্রবেশ করেছে ভারতের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার নন্দাদেবী। এর আগে একই পথে নিরাপদে বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ভারতীয় ট্যাঙ্কার শিবালিক। নেপথ্যে দিল্লির তরফে বিভিন্ন স্তরে চার দফা ফোনালাপ। এমনকী খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কথা বলেন।
ইরানের তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার এক লিটার তেলও বাইরে যাবে না। যদিও চিন ও রাশিয়াকে হরমুজ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে তেহরান। এতদিন ভারতকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেসিকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে গত দুই সপ্তাহে অন্তত চারবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘাচির সঙ্গে। মনে করা হচ্ছে এতেই কাজ হল।
সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে নন্দা দেবী ভারতীয় নৌসেনার নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই রয়েছে। যাত্রার পরবর্তী অংশে নৌসেনাই জাহাজটিকে এসকর্ট করে ভারতে নিয়ে আসবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দু’দিনের মধ্যেই জাহাজটি ভারতের কোনও বন্দরে পৌঁছতে পারে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মুম্বাই বন্দর অথবা কান্ডলা বন্দরে নোঙর করতে পারে ট্যাংকারটি।
সূত্রের দাবি, এই জাহাজে রয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল আংশিক ব্যাহত হওয়ায় এই কার্গো ভারতের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে একইভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ পথ নিশ্চিত হওয়ার পর ‘শিবালিক’ও হরমুজ প্রণালী পার হয়ে খোলা সমুদ্রে পৌঁছেছিল। বর্তমানে দুই জাহাজই ভারতীয় নৌসেনার নজরদারিতেই নিরাপদে এগিয়ে চলেছে।
কৌশলগত দিক থেকে সংবেদনশীল এই সমুদ্রপথে যাতে কোনও ঝুঁকি তৈরি না হয়, তার জন্য ভারতীয় নৌসেনা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জাহাজগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারি মহলের মতে, এই দুই জাহাজের সফল যাত্রা ভবিষ্যতে অন্যান্য জাহাজকেও একইভাবে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করানোর পথ তৈরি করবে।
ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের এলপিজি চাহিদার বড় অংশই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে এই ধরনের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।