ছ’মাসে একের পর এক বাস দুর্ঘটনা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় বাড়ছে মৃত্যুমিছিল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

অন্ধ্রপ্রদেশের মারকাপুরমে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বাসে আগুন লাগার ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু যেন নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা। গত ছ’মাসে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় একের পর এক মারাত্মক বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন কৃতিত্ব দাবি করলেও বাস্তবে পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে, তা এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনাগুলিই প্রমাণ করে দিচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের কাছে এক ভয়াবহ ঘটনায় ১৯ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হন। একটি বাস রাস্তার উপর পড়ে থাকা মোটরবাইকের উপর দিয়ে যাওয়ার পর আগুন ধরে যায়। তদন্তে জানা যায়, একটি দুর্ঘটনার পর বাইকটি রাস্তায় পড়ে ছিল এবং বাস সেটিকে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যায়। বাইকের জ্বালানি লিক হয়ে আগুন লেগে পুরো বাসটিকে গ্রাস করে। এই ঘটনায় দুই শিশুসহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়।

এর কিছুদিন পর তেলেঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফের ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ৭২ জন যাত্রী বোঝাই বাসের উপর পাথর বোঝাই টিপার ট্রাক উঠে যাওয়ায় সামনের সারির যাত্রীরা কার্যত চাপা পড়ে যান। এই ঘটনায় এক শিশুসহ বহু মহিলা প্রাণ হারান। একই দিনে অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরু জেলায় একটি বাস বাঁক নিতে গিয়ে উলটে যায়। সেখানে একজনের মৃত্যু এবং একাধিক যাত্রী আহত হন। তার পরদিনই শ্রী সত্য সাই জেলায় ফের একটি বাস ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারার ফলে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়।


অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নন্দ্যাল জেলায় টায়ার ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস ডিভাইডার টপকে অন্য লেনে ঢুকে পড়ে। ফলে একটি লরির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

এভাবে একের পর এক এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনকে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের গাফিলতি কিংবা রাস্তার পরিকাঠামোর সমস্যা—সব দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে ১৫ হাজারেরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি এই দুর্ঘটনাগুলির প্রধান কারণ। পাশাপাশি ভুল পথে গাড়ি চালানো ও অসতর্কতাও বড় ভূমিকা নিচ্ছে। সব মিলিয়ে, একের পর এক দুর্ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে— সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে শুধু নির্দেশ নয়, বাস্তবিক পক্ষে কড়া পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।