অন্ধ্রপ্রদেশে বাস দুর্ঘটনায় আগুনে মৃতদের পরিবারকে ৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা

দুর্ঘটনার মুহূর্তে অগ্নিকাণ্ড।

অন্ধ্রপ্রদেশের মারকাপুরম জেলায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করল রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।

জানা গিয়েছে, ভোরবেলা রায়াভরম এলাকায় একটি পাথর খাদানের কাছে বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে টিপার ট্রাকের সংঘর্ষের পরের মুহূর্তের মধ্যে বাসে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতায় বাসটি সম্পূর্ণ ঝলসে যায়। বহু যাত্রী ভিতরে আটকে পড়েন। এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৮ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বাসটি তেলেঙ্গানা থেকে নেল্লোর জেলার দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহতদের ওঙ্গোল ও মারকাপুরমের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বাসটি সম্ভবত বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল এবং টিপার ট্রাকের ডিজেল ট্যাঙ্কে ধাক্কা মারায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসচালক দাবি করেছেন, হঠাৎ করে স্টিয়ারিং আটকে যাওয়ায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান। তবে এই দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবহণ মন্ত্রীও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ভুল পথে গাড়ি চালানো এবং যান্ত্রিক ত্রুটি—এই সব কারণই এই ধরনের দুর্ঘটনার পিছনে বড় ভূমিকা নেয়।