সংসদে চা-পকোড়া খাওয়া নিয়ে রাহুলকে নিশানা অমিত শাহের

রবিবার গুয়াহাটি থেকে চা ও পকোড়া খাওয়া নিয়ে রাহুলকে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। অমিত শাহের অভিযোগ, দেশের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সংসদের মর্যাদা রাহুল রক্ষা করছেন না। শাহের দাবি, রাহুল প্রায়ই সংসদের সিঁড়িতে বসে চা ও পাকোড়া খান, যা সংসদের মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।

শাহ বলেন, সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেই জায়গায় বসে নাশতা করা বা এ ধরনের আচরণ করা শোভন নয়। তাঁর মতে, সংসদের দরজার সামনে বসে চা-পকোড়া খাওয়ার মাধ্যমে রাহুল আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ণ করছেন। তিনি আরও বলেন, সংসদে বসে প্রতিবাদ করারও একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু রাহুল সেই সীমাও অতিক্রম করছেন।

এর পাশাপাশি রাহুলের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাহুল সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে খুব কমই অংশগ্রহণ করেন। সরকারের নীতির বিরোধিতা করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, আলোচনায় অংশ না নিয়ে সংসদ থেকে সরে যাওয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের বা সরকারের সমালোচনা করুন, প্রতিবাদ করুন—তা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু সংসদে কথা না বলে বারবার বেরিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।‘


এদিন বক্তব্যে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনের প্রসঙ্গও তোলেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, সেই সম্মেলনের সময় কিছু কংগ্রেস কর্মী অর্ধনগ্ন অবস্থায় প্রতিবাদ করেছিলেন, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা। তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেখতে এসেছিলেন, সেই সময় এমন আচরণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

শাহ আরও দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য এখনও পর্যন্ত রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে ক্ষমা চাননি। বরং তিনি ওই প্রতিবাদকারীদের ‘বব্বর শের’ বলে প্রশংসা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, দেশের মানুষ এমন আচরণ মেনে নেবে না এবং ভবিষ্যতে এর যথাযথ জবাব দেবে।