মাওবাদীদের গণতন্ত্র বা উন্নয়নে বিশ্বাস নেই, কড়া বার্তা অমিত শাহের

মাওবাদী মতাদর্শকে সরাসরি আক্রমণ করে লোকসভায় কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা বন্দুকের নলের মধ্যেই জন্মায়’— মাওবাদীদের এই নীতিই প্রমাণ করে গণতন্ত্র, উন্নয়ন বা মানুষের সেবার প্রতি তাদের কোনও আস্থা নেই।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি করলেন। সোমবার লোকসভায় ‘নকশালমুক্ত ভারত’ নিয়ে আলোচনায় তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ৭০৬ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে, ২,২১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪,৮৩৯ জন আত্মসমর্পণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্ধারিত ৩১ মার্চ ২০২৬ সময়সীমার মধ্যেই দেশকে সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে নিরাপত্তা অভিযান এবং উন্নয়ন— দুই দিকেই সমান জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাওবাদীদের মূল লক্ষ্য হল আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করা। তাঁর কথায়, ‘তাদের চিন্তাধারায় উন্নয়ন, গণতন্ত্র বা অগ্রগতির কোনও আলোচনা নেই।’ মাওবাদী হিংসাকে ন্যায়বিচারের নামে যারা সমর্থন করেন, তাঁদেরও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন শাহ। সংবিধান লঙ্ঘন করে, অস্ত্র তুলে নিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা ব্যক্তিরা কীভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করেন— তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভগৎ সিং বা বিরসা মুন্ডার মতো শহিদদের সঙ্গে এই ধরনের তুলনা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’।


মাওবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিমুখী কৌশলের কথাও তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি জানান, একদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো— রাস্তা, স্কুল, মোবাইল সংযোগ— দ্রুত গড়ে তোলা হচ্ছে মাওবাদ প্রভাবিত এলাকায়। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের সীমিত সম্পদ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দূরবর্তী আদিবাসী এলাকায় মাওবাদীরা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে মধ্য ভারতের আদিবাসী অঞ্চলে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, নক্সালবাড়ি এবং বস্তারের মতো অঞ্চল শুধু আর্থিক পশ্চাদপদতার জন্য নয়, বরং কম শিক্ষার হার, প্রশাসনিক উপস্থিতির অভাব এবং বিকল্প মতাদর্শের ঘাটতির কারণেও মাওবাদী কার্যকলাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে একই রকম আর্থিক অবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিহারের সহর্স বা উত্তরপ্রদেশের বলিয়ার মতো এলাকায় মাওবাদীদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। এই উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভৌগোলিক ও মতাদর্শগত কারণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সরকার মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অমিত শাহ দাবি করেন, তিনি নিজে মাওবাদ প্রভাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মাওবাদীদের অস্ত্র ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্পষ্ট বার্তায় তিনি বলেন, ‘যারা অস্ত্র ছাড়বে, তাদের সঙ্গেই সরকার আলোচনা করবে।’

উল্লেখ্য, লোকসভায় এই আলোচনা এমন সময় হল, যখন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নকশালবাদের অবসান ঘটানোর সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। সেই লক্ষ্যেই সরকার আরও জোরদারভাবে অভিযান ও উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবে বলে স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।