বস্তারে ২৬তম কেন্দ্রীয় জোনাল কাউন্সিলের বৈঠকে অমিত শাহ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হল কেন্দ্রীয় জোনাল কাউন্সিলের বৈঠক। মঙ্গলবার জগদলপুরে আয়োজিত ২৬তম কেন্দ্রীয় জোনাল কাউন্সিলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘদিন মাওবাদী কার্যকলাপের জন্য পরিচিত বস্তারে এই বৈঠকের আয়োজনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক এবং পুলিশ আধিকারিক বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে মূলত কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করে দ্রুত উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং আন্তঃরাজ্য সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় রাস্তা, রেল এবং দূরসংযোগ পরিকাঠামোর উন্নয়নের উপর। পাশাপাশি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবিকার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মাওবাদ দমন এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রসঙ্গ। বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন অংশগ্রহণকারীরা। বৈঠকে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ দ্রুত মোকাবিলার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃরাজ্য বিবাদ মেটানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, একসময় মাওবাদী কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বস্তারকে এখন পর্যটন, বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই কারণেই এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বস্তারে এই বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে কেন্দ্র স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, সংঘর্ষের অতীত পেরিয়ে এখন উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে অঞ্চলটি। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান তপন কুমার ডেকা এবং চার রাজ্যের পুলিশ প্রধানরাও।