ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার ভারতের স্বার্থের উপরও পড়তে শুরু করেছে। সোমবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরের কাছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হামলার খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের কাছাকাছি পাহাড়ি এলাকায় ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল এবং সেই ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকা বা ইরান—কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
চাবাহার বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন করার জন্যই ভারত এই বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছিল। ফলে এই বন্দরকে ঘিরে যে কোনও অস্থিরতা ভারতের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, চাবাহারের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার উপর দিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘোরাফেরা করছে। আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদসংস্থার সূত্রে দাবি, ওই এলাকাতেই ইরানের সামরিক ঘাঁটি ছিল এবং সেখানেই হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে অসমর্থিত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বন্দরের আশপাশে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গিয়েছে।
অতীতে এই প্রকল্পে ভারতের আর্থিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে চাবাহার প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। পরের অর্থবর্ষে প্রথমে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে আবার ৪০০ কোটি করা হয়। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা নিয়ে তখন নানা প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আবারও সক্রিয় হয়েছে। ইরান ভারতমুখী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতিও দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চাবাহার বন্দরের কাছে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।