শারীরিক অবস্থা ও মামলার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবকে বড়সড় স্বস্তি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ‘জমির বদলে চাকরি’ দুর্নীতি মামলায় ট্রায়াল কোর্টে সশরীরে হাজিরা থেকে আপাতত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ৭৭ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে না। তবে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থেকে মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন এবং আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, লালুপ্রসাদ যাদবের শারীরিক পরিস্থিতি এবং মামলার বর্তমান অবস্থান বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআর বা তদন্ত বাতিলের আবেদন এই মুহূর্তে গ্রহণ করা হচ্ছে না।
বিচারপতিরা জানিয়েছেন, দুর্নীতির মামলায় অনুমোদন সংক্রান্ত যে আইনি প্রশ্ন উঠেছে, তা বিচার প্রক্রিয়ার উপযুক্ত পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হবে। ফলে এই বিষয়টি এখনই নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, লালুপ্রসাদ যাদব দাবি করেছিলেন, দুর্নীতি দমন আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা সেই নিয়ম মানেনি বলে তাঁর অভিযোগ।
তবে এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট আইনটি ২০১৮ সালে কার্যকর হয়েছে, অথচ অভিযোগের সময়কাল ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে। ফলে ওই আইন এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।
এই মামলার সূত্রপাত হয় যখন লালুপ্রসাদ যাদব কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জমি বা উপহার নেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগে ২০২২ সালে মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে আপাতত বারবার আদালতে হাজিরার শারীরিক চাপ থেকে স্বস্তি পেলেন তিনি। তবে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলবে এবং সমস্ত আইনি প্রশ্ন ট্রায়াল কোর্টেই নিষ্পত্তি হবে।