বাংলা-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। শুধু বাংলা নয়, দেশের অন্য রাজ্যেও এসআইআর নিয়ে বারবার উঠছে হেনস্থার অভিযোগ। কাজের চাপে বাংলায় একাধিক বিএলও-র মৃ্ত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখিয়ে সাধারণ ভোটার ও বিএলও-দের হয়রানির অভিযোগে প্রতিবাদ থেকে ইস্তফার পথ বেছে নিচ্ছেন বিএলওরা।
এবার ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু নাম কেটে দেওয়ার অভিনব অভিযোগ করেছেন রাজস্থানের এক বিএলও। চাপের মুখে মরিয়া হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তিনি। সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। ভিডিওতে বিএলও বলতে শোনা গেছে, ‘আমি কালেক্টরের অফিসে যাব, সেখানেই নিজেকে শেষ করে দেব।’
এর আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজের চাপের ধকল না নিতে পেরে মৃত্যুর অভিযোগ করেছে একাধিক বিএলও-র পরিবার। অ্যাপের গন্ডগোল, পর্যাপ্ত ট্রেনিং না দিয়ে ভোটের কাজে নামানোর অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু সংখ্যালঘু নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার ফতোয়া দিয়ে চাপসৃষ্টির অভিযোগ এই প্রথম।
এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কীর্তি কুমার নামে এক বিএলও। জয়পুরের মুসলিম অধ্যুষিত হাওয়া মহল বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলও তিনি। গত বিধানসভায় ভোটে কম মার্জিনে জেতা বিজেপি প্রার্থীদের কেন্দ্রগুলিতে মুসলিম ভোটারদের নাম এসআইআর-এর খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। কীর্তি কুমার পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন তাঁর বুথের ৪৭০ জন অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম বিজেপি খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ এবং হুমকি দিচ্ছে। যা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিজেপির আপত্তি তোলা নামগুলি মুসলিম ভোটারদের বলে দাবি করেছেন কীর্তি। সব ভোটার বৈধ বলে দাবি ওই বিএলওর। কীর্তির ভিডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাহানিকে তিনি ফোনে বলছেন, গোটা বস্তির ভোটারদের নাম হয়তো কেটে দেব যাতে আপনার, ‘মহারাজে’র সহজে ভোটে জিততে সুবিধা হবে। বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্যকে ‘মহারাজ’ বলে করেছেন।
২০২৩-এর বিধানসভা ভোটে হাওয়া মহলে তিনি মাত্র ৯৭৪ ভোটে জেতেন। তিনি আবার জয়পুরের দক্ষিণমুখিজি বালাজি মন্দিরেরও আচার্য। ভোটে জেতার পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন মহারাজ। বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্কমূল মন্তব্য করতে তাঁকে শোনা গিয়েছে।কীর্তিকে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ৪৭০টি ফর্ম প্রসেস করতে বলা হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে ৭৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। নতুন ভাবে করতে হবে সব কিছু। এই সকল ভোটারদের বৈধতা ফের যাচাই করতে হবে কীর্তি কুমারকে।