অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনার উল্লেখ করে দেশের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন মন্তব্য করেন, রামমন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে অনুদান চুরির ঘটনাতেও যদি সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ না ঘটে, তবে তা দেশের নৈতিক মূল্যবোধের অবনতিরই ইঙ্গিত। বিচারপতি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডেরও সুপারিশ করেছেন।
উত্তরপ্রদেশে উচ্ছেদ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি বলেন, দুর্নীতি দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন যে, ধরা না পড়া পর্যন্ত অনেকেই সেটিকে অপরাধ বলেই মনে করেন না। তাঁর কথায়, রামমন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় যাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া নেই, তাঁদের আর কোনও বিষয়েই লজ্জাবোধ থাকার কথা নয়।
বিচারপতি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেও মত দিয়েছেন।বিচারপতি অতুল শ্রীধরনের কথায়, ‘রাম মন্দিরে অনুদান চুরির সাম্প্রতিক বিতর্কটি হলো উটের পিঠের শেষ খড়কুটোর মতো। রাম মন্দিরের এই চুরির ঘটনায় যারা অবিচলিত থাকে, তাদের কোনো কিছুতেই লজ্জা মিলতে পারে না; এই ঘটনাটি ভারতীয়দের সততার চরম অধঃপতনের প্রতীক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ সাধারণ ভারতীয় দুর্নীতিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে। কেউ ধরা না পড়া পর্যন্ত তারা এটাকে ভুল মনে করে না। স্বচ্ছতার তালিকায় ১৮২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ৯১তম, এবং তাতেও আমরা লজ্জিত হই না।’
দুর্নীতি রোধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষেও মত দেন বিচারপতি শ্রীধরন। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-তে সংশোধন আনার বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত। ব্যক্তিগত মত হিসেবে তিনি দুর্নীতির মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখারও পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামীর নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি চুরির প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে, রামমন্দিরে প্রণামী চুরির মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, এটি মূলত একটি ফৌজদারি অপরাধের মামলা এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। মামলার পরবর্তী শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তদন্তের অগ্রগতি-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।