উত্তরপ্রদেশে গুণ্ডা দমন আইন নির্বিচারে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি মামলার শুনানিতে লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী বলেন, সরকার ইচ্ছেমতো এই আইন প্রয়োগ করতে পারে না। কাউকে ‘গুণ্ডা’ ঘোষণা বা জেলা থেকে বহিষ্কারের আগে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সব প্রাসঙ্গিক দিক খতিয়ে দেখা জরুরি।
গোন্ডা জেলার মামলা। জাহিদ আলি নামে এক ব্যক্তিকে ছ’মাসের জন্য জেলা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০২০ সালের দুটি মামলার উল্লেখ করে গুণ্ডা দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করেছিল পুলিশ। কিন্তু নথি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট জানতে পারে, ২০১০ সালের মামলায় ২০১৭ সালেই জাহিদকে নির্দোষ ঘোষণা করেছিল আদালত।
এর পরেই বহিষ্কারের নির্দেশ বাতিল করে হাইকোর্ট। আদালতের প্রশ্ন, যে মামলায় কোনও ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, সেই মামলাকে ভিত্তি করে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে গুণ্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা যায় ? একই সঙ্গে আদালত জানায়, ২০২০ সালে সংঘটিত কোনও অপরাধের ভিত্তিতে ৬ বছর পরে কাউকে গুণ্ডা ঘোষণা করা যায় না। জেলা থেকে বহিষ্কারের মতো নির্দেশ দেওয়ার আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে আরও সতর্ক হতে হবে বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ঘিরে উত্তরপ্রদেশে গুণ্ডা দমন আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। সরকারের যুক্তি, অপরাধের বিচার ও সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের অপরাধ বিবেচনা করা আইনত নিষিদ্ধ নয়। অপরাধ দমনে অভিযুক্তের পূর্ববর্তী কৃতকর্মও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজ্য।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও সম্প্রতি গুণ্ডা দমন আইন পাস হয়েছে। ওই আইনে অভিযুক্তকে জেলা থেকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। বিজেপি সরকারের আনা এই আইনের বিরোধিতা করেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি।