বারামতী থেকে রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ারের। জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বারামতীরই জনপ্রতিনিধি ছিলেন অজিত। সাংসদ, বিধায়ক-সমস্ত পদ পেয়েছেন বারামতী থেকে। আর বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনও শেষ হল এই বারামতিতেই। বৃহস্পতিবার সেই বারামতীতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের।
বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান মাঠে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর নশ্বর দেহের পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করেন তাঁর দুই ছেলে পার্থ ও জয়। তারপরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের সামনে এবং কাকা শারদ পাওয়ার ও তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের উপস্থিতিতে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করেন অজিত-পুত্ররা। ভিড় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষযাত্রার রুট বদল করা হয়। শোভাযাত্রা বারামতি শহরের ভিতর দিয়ে না নিয়ে গিয়ে সরাসরি বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিদায়বেলায় উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার ও দুই পুত্র পার্থ ও জয়। চোখে জল নিয়ে তাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। ভাইপোর কফিনের সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ারকে। এনসিপি (শারদ পাওয়ার) নেত্রী তথা অজিত পাওয়ারের খুড়তুতো বোন সুপ্রিয়া সুলে, ছগন ভুজবল, রাজ ঠাকরে, অমিত ঠাকরে, জিতেন্দ্র দুদি, প্রতাপ পাওয়ারসহ রাজ্য-রাজনীতির বহু শীর্ষ নেতা এদিন শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বারামতির একটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে অজিতের মরদেহ পুণে জেলার বিদ্যা প্রতিষ্ঠান চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে এনসিপি কর্মীরা তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানান। তারপর অজিতের কফিনবন্দি দেহাংশ ফুলে ঢাকা শকটে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর কাটেওয়াড়ির বাড়িতে। সেখানে এনসিপি নেতাকে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্যেরা। প্রিয় অজিত ‘দাদা’, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন। শেষশ্রদ্ধা জানাতে পা মিলিয়েছেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ভিড় থেকে স্লোগান দেওয়া হয়, ‘অজিত দাদা অমর রহে’।
বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের বিমান। ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ, ওড়ার ঠিক ৩৩ মিনিট পর বিমানটি ভেঙে পড়ে। বুধবার সকালে এই বিমান দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার-সহ মোট পাঁচ জনের। বুধবারই মহারাষ্ট্রে তিন দিনের শোকদিবস ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ফডনবিশ। বুধবার মহারাষ্ট্রের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হয়েছে বিমানের ব্ল্যাক বক্স। তদন্ত চলছে, কিন্তু প্রশ্নের ভিড়ে আজ উত্তর নেই, আছে শুধু শূন্যতা।