দেশজুড়ে ক্রমশ বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহের জেরে ডিহাইড্রেশন এবং হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলেই সতর্ক করলেন দিল্লির এইমসের চিকিৎসকরা। সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসাবধানতাও ভয়াবহ শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
দিল্লির সর্বভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান বা এইমসের মেডিসিন বিভাগের অতিরিক্ত অধ্যাপক ডা. পীযূষ রঞ্জন জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে তাপমাত্রাজনিত সমস্যাও বাড়তে শুরু করে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হল ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জল এবং লবণের ঘাটতির সৃষ্টি হওয়া।
তাঁর কথায়, ‘অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর জল এবং লবণ বেরিয়ে যায়। প্রথমে ডিহাইড্রেশন হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে, যাকে সাধারণভাবে লু লাগা বলা হয়। গুরুতর অবস্থায় রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।’ সেজন্য ডা. রঞ্জন বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪ বা ৫টা পর্যন্ত যতটা সম্ভব বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এই সময় তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে।’
তবে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরোতে হলে কয়েকটি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যেমন পুরো হাতা জামা, লম্বা প্যান্ট পরা, মাথা কাপড়, টুপি বা পাগড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা এবং ছাতা ব্যবহার করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি পর্যাপ্ত জলপানের উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাইরে বেরোনোর আগে অন্তত এক থেকে দুই লিটার জল খাওয়া উচিত। পাশাপাশি শরীরে জল এবং লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে ওআরএস বা ইলেকট্রোলাইট জাতীয় পানীয় খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
এইমসের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নীরজ নিশ্ছল জানিয়েছেন, এই ধরনের তীব্র গরমে শুধু সাধারণ জল খেলেই সবসময় যথেষ্ট হয় না। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণও বেরিয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘শুধু জল নয়, শরীরে লবণের ঘাটতিও পূরণ করতে হবে। তাই ওআরএস বা ইলেকট্রোলাইট বেশি উপকারী। এছাড়া বেলের শরবত, শিকাঞ্জি, ডালের জল-সহ প্রচলিত পানীয়ও শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং জলশূন্যতা রোধে সাহায্য করে।’
চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালে এখন গরমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা। গুরুতর ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের কারণে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই অবস্থায় জ্বর, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে প্রবীণ মানুষ, শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই গরমে সামান্য অসাবধানতাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।