গত বছর আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটেছিল। এবার সেই দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। যা এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন বিমান নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছে, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য তাদেরকে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত মিলেছে, এই দুর্ঘটনার জন্য পাইলটের ভুল নয়, বরং আগে থেকেই থাকা যান্ত্রিক ত্রুটিই দায়ী হতে পারে।
মার্কিন সংস্থা এভিয়েশন সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এড পিয়ারসনের দাবি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি সম্পর্কে তাদের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বিমানে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। বিমানের বৈদ্যুতিক তারে ত্রুটি, শর্ট সার্কিট এবং ধোঁয়া বের হওয়ার মতো ঘটনা আগেও নথিভুক্ত হয়েছিল। এসব সমস্যার কারণে বিমানটিকে একাধিকবার মেরামতির জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, বিমানের পি–১০০ পাওয়ার প্যানেল, যা ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেটিও আগে প্রতিস্থাপন করতে হয়েছিল। এছাড়াও বিমানটির নকশা ও সফটওয়্যার নিরাপত্তা নিয়েও সংশোধনের প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত সমস্যার পরও কীভাবে বিমানটিকে পুনরায় উড়ানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য বিষয় হল, দুর্ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। তবে অভিযোগ উঠেছে, তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়নি। এর ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, মার্কিন সংস্থার দাবি যদি সত্যি হয় তবে এটা স্পষ্ট যে সব জেনেশুনেই তদন্তের মোড় ঘোরাতে পাইলটের ভুলের দিকে আঙুল তোলা হয়েছিল।
গত বছরের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭–৮ বিমান উড়ার কয়েক সেকেন্ড পরই মেঘানিনগর এলাকার বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
এএআইবি–এর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উড়ার সময় হঠাৎই বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি ‘কাটঅফ’ মোডে চলে যায়, ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রিপোর্টে পাইলটের ভুলের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছিল। তবে পাইলটদের সংগঠন শুরু থেকেই সেই রিপোর্টের বিরোধিতা করে দাবি করেছিল, তদন্তে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই তারা আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।