পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত নিয়ে ব্রিকস নেতাদের ঘোষণাপত্রে ঐক্যমত তৈরি করে বড় কূটনৈতিক সাফল্য পেল ভারত। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, দুই দেশই ব্রিকসের সদস্য হলেও পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনীতিকদের দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত দুই দেশই ঘোষণাপত্রের ভাষায় সম্মতি দেয়। যা ভারতের কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়োজনে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই ৪৫ পাতার বিস্তারিত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। মোট ১৪০টি পয়েন্টের ওই ঘোষণাপত্রে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তজেনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার পাশাপাশি সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দুই দেশের সংবেদনশীল অবস্থানের কথা মাথায় রেখে ঘোষণাপত্রে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জন্য কোনও নির্দিষ্ট দেশকে দায়ী করা হয়নি। ভারতীয় আধিকারিকদের দাবি, এই ভাষা নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে রাজি করাতে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করতে হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ঐক্যমত তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
ভারতের এক আদিকারিকের কথায়, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখা না হলে এই ঐক্যমত তৈরি করা সম্ভব হত না। এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক। ৫০ মিনিটের সেই বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চিন সম্পর্ক, সীমান্ত সমস্যা ও বাণিজ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রিকসের ভাবনা, অন্তিম দিনে প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা
গত তিন বছরে কাজান, তিয়ানজিনের পর এটি তাঁদের তৃতীয় ধারাবাহিক বৈঠক। মোদী বলেছেন, দুই দেশের মতপার্থক্য যেন কোনও ভাবেই বিরোধে পরিণত না হয়। শি জিনপিংও ভারত-চিনকে সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা ও ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলে চিনের পরিকাঠামো ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে চলতি বছরের শেষ দিকে রাশিয়ায় মোদী-পুতিন বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।