যুদ্ধ প্রস্তুতিতে পাকিস্তান! ভারত সীমান্তে ২৫০ পাক হাউৎজার মোতায়েন

ভারতের দিকে তাক করে পাক হাউৎজার PIC-AI

অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে যেভাবে পাকিস্তান পর্যদুস্ত হয়েছিল, তা দেখেছিল গোটা বিশ্ব। অনেকেই আশা করেছিলেন, ভবিষ্যতে আর ভারতের বিরুদ্ধে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না পাকিস্তান। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।

বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ভারতের দিকে মুখ করে ২৫০টি হাউৎজার মোতায়েন করেছে। ১৫৫ মিমি ক্যালিবারের এই আর্টিলারি সিস্টেমগুলিকে ভারতের পূর্ব সীমান্তের দিকে লক্ষ্য রেখে রাখা হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে এগুলি মোতায়েন করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। আর তার পরে ফের জোরালো হয়েছে যুদ্ধের সম্ভাবনা।

এসএইচ-১৫  তৈরি করেছে চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নরিনকো । এই অস্ত্রের উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি  । এতে বড় আকারের চাকা থাকায় দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকাতেও সহজে এটি নিয়ে যাওয়া যায়। দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় এটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এই আর্টিলারি সিস্টেম ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে এতে ভি-ল্যাপ  প্রোজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) মোডেও পরিচালনা করা যায়। প্রয়োজন হলে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৬ রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবর্ষণ করতে পারে এই হাউৎজার। এক কথায়, পাক সেনার কাছে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি অস্ত্র। হামলা চালানোর পর মুহূর্তের মধ্যেই এটি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, ফলে পাল্টা আক্রমণে একে লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একাধিক রেজিমেন্ট এই হাউৎজার ব্যবহার করে। এমনকি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রটিতে কিছু পরিবর্তনও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত দশকে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে এই হাউৎজার সরবরাহ করে চিন। শুধু অস্ত্র সরবরাহই নয়, দুই দেশ একাধিকবার যৌথ সামরিক মহড়াতেও অংশ নিয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেজিং ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

তবে চিনা অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। ভারতের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতায় পাকিস্তান সেই সীমাবদ্ধতার স্বাদ পেয়েছে বলেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও চিনের অস্ত্রের উপর নির্ভরতা কমাতে পারেনি পাকিস্তান; বরং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে।