মণিপুরে ফের হিংসা, ২ কুকি মহিলাকে হত্যার পর নাগা গ্রামে পুড়িয়ে দেওয়া হল একাধিক বাড়ি

Manipur Violence Photo-SNS

ফের উত্তেজনার আগুন মণিপুরে। মঙ্গলবার তামেংলং জেলার লাইসাংফাই এলাকায় ২ কুকি মহিলাকে গুলি করে হত্যার পর গভীর রাতে কাংপোকপি জেলার চাওয়াংকিনিং লিয়াংমাই নাগা গ্রামে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল সশস্ত্র কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। রাতভর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে চলে গুলির লড়াই। পুড়ে যায় ২টি বাড়ি। অন্য একটি প্রতিবেদনে অন্তত ৫টি বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ৩দিনের মধ্যে পরপর হামলায় অন্ততপক্ষে ৬ জনের মৃত্যু হল মণিপুরে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একটি বড় দল চাওয়াংকিনিং গ্রাম ঘিরে ফেলে গুলি চালাতে শুরু করে বলে স্থানীয়দের দাবি। গ্রামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফ জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালান। প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলে। ভোর সাড়ে ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে হামলাকারীরা পিছিয়ে যায় বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গিরা গ্রামে ঢুকতে না পারলেও গ্রামের প্রান্তে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

চাওয়াংকিনিং কাংপোকপি জেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে, নাগা ও কুকি অধ্যুষিত এলাকার মাঝখানে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দা ড্যানিয়েল চ্যারেনামাইয়ের দাবি, প্রায় ১০০ জন সশস্ত্র হামলাকারী গ্রামে ঢুকে তাঁর দোকান-সহ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় নিরাপত্তা বাহিনী সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। যদিও গ্রামবাসীদের একাংশ জানিয়েছে, নাগা গ্রামরক্ষীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই ঘটনায় হতাহতের খবর নেই।


এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তামেংলং জেলার লাইসাংফাই এলাকায় কৃষিজমিতে কাজ করতে যাওয়া ২ কুকি মহিলাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে এক জন, ৬০ বছরের চোঙ্গা সিতলহৌ। তিনি জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। অন্যজন ৩০ বছরের কিমবোই সিংসন। তিনি সম্প্রতি নার্সিংয়ের পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফিরেছিলেন।তাঁর বাবা-মাকে কৃষিকাজে সাহায্য করছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন কুকি সংগঠন নিন্দা করেছে।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর তামেংলংয়ের টোলেন ও লংপি এলাকায় পৃথক হামলায় ৪ জন উপজাতি সাধারণ নাগরিক নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাহাড়ি জেলাগুলিতে।

এই পরিস্থিতিতে নাগা নেতা আওয়াংবৌ নেওমাই হিংসার সমালোচনা করে বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান কখনও হিংসার পথে হতে পারে না। একজন কুকি বিধায়কও ২ মহিলার হত্যার নিন্দা করেছেন।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগে ইম্ফল থেকে ন্যাশনাল রেভলিউশনারি ফ্রন্টের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত তোমতিন মেইতেই ও শেলেইবাম জগতশ্যাম মেইতেইয়ের বিরুদ্ধে ২২ আগস্ট লামলং বাজারে এসএসবি এবং ১০ সেপ্টেম্বর খোঙ্গামপাতে সিআরপিএফের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩-এর মে মাসে মেইতেই-কুকি সংঘর্ষ দিয়ে মণিপুরের জাতিগত হিংসার শুরু। পরে একাধিক সম্প্রদায় তাতে জড়িয়ে পড়ে। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহারের পর নতুন সরকার গঠিত হলেও বিক্ষিপ্ত হিংসা পুরোপুরি থামেনি। ২০২৩-এর মে থেকে এখনও পর্যন্ত ৩০৬ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। ফলে নতুন করে এই হামলাগুলি মণিপুরে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টার সামনে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।