মৈত্রী-বন্ধন-মিতালি এক্সপ্রেস আবার চালু হতে চলেছে, আরও একটি নতুন ট্রেনের দাবি উঠল

Maitrayee Express Photo-ANI

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালেই চালু হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে একপ্রস্ত কথাবার্তাও হয়ে গিয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালি এই তিনটি ট্রেনই আবার দুই দেশের মধ্যে চলাচল শুরু করবে। এই আবহে আরও একটি অতিরিক্ত ট্রেনের দাবিও জানানো হয়েছে বাংলাদেশ রেলের পক্ষ থেকে। দীর্ঘ দু’বছরেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা। এবার আবার চালুর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালি এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু’দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক। এই বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। দু’দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আগামী মাস থেকেই তিনটি ট্রেন আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক কথাবার্তায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কলকাতা-রাজশাহী লাইনে একটি ট্রেন চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। আর তাতে রাজি হয়েছে ভারতীয় রেলও বলে সূত্রের খবর। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকার তাতে সম্মতি দিলেই আবার ট্রেন পরিষেবা চালু হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে রেল বিষয়ে পারষ্পরিক সহযোগিতাও এখন বাড়ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অত্যাধুনিক ১৯ কোচের এসি প্যাসেঞ্জার রেক দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আরও ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার কোচ কিনবে বাংলাদেশ।

ঢাকার রেলভবনে এই নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা আবার চালুর পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের একাধিক প্রস্তাব তুলবে বাংলাদেশ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব। ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়টিও আলোচনার জন্য পৃথক অ্যাজেন্ডা রাখা হয়েছে। মৈত্রী এক্সপ্রেস এতদিন যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করত। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষ রাতে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা এবং যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল পরিবহণের সুবিধা চালুর বিষয়ে ভারতের কাছে প্রস্তাব দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।


তাছাড়া ঢাকা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দর্শনা-গেদে, বেনাপোল-পেট্রাপোল এবং রহনপুর-সিংহাবাদ রুটে ২৪ ঘণ্টা পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব দেবে। তখন ভারত কী বলে সেটাই দেখার। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে পয়লা বৈশাখের দিন ঢাকা-কলকাতার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়। ২০১৭ সালে চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস। ২০২২ সালে মিতালি এক্সপ্রেস চালু করা হয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাময়িক অবনতি ঘটে।