প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও নুনের পরিমাণ সম্পর্কে ক্রেতাদের সতর্ক করতে প্যাকেটের সামনের দিকে বিশেষ সতর্কীকরণ চিহ্ন চালুর প্রস্তাব দিল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)। একটি জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ছয় পাতার কমপ্লায়েন্স অ্যাফিডেভিট দিয়ে এই প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্যাকেটজাত খাবারের সামনে লাল রঙের ষড়ভুজাকৃতি ‘ছয় কোণ বিশিষ্ট চিহ্ন’ বা ‘ছয় কোণওয়ালা চিহ্ন’ সতর্কীকরণ লেবেল দেওয়া হবে। কোনও পণ্যে নির্ধারিত মাত্রার বেশি ‘অ্যাডেড স্যাচুরেটেড ফ্যাট’, ‘অ্যাডেড সুগার’ এবং নুনের মধ্যে অন্তত দু’টি থাকলে প্রথম পর্যায়ে সেই পণ্যে সতর্কীকরণ চিহ্ন থাকবে। মাত্রা নির্ধারণ করা হবে ২০২৪ সালের আইসিএমআর-এনআইএন (ICMR-NIN)-এর ভারতীয়দের জন্য খাদ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী।
লেবেলে পণ্যের ধরন অনুযায়ী লেখা থাকতে পারে হাই ফ্যাট (High Fat), হাই সুগার (High Sugar), হাই সল্ট (High Salt) কিংবা হাইলি সুইটেন্ট ব্রেভারেজ (Highly Sweetened Beverage)। পিছনের দিকে থাকা নিউট্রিশন ইনফরমেশন টেবিলের তুলনায় সতর্কীকরণটি এক পয়েন্ট বড় ফন্টে দেখানোর প্রস্তাবও দিয়েছে FSSAI। যাতে সাধারণ মানুষের নজরে সহজেই আসে।
FSSAI দু’টি পর্যায়ে এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি দু’টি বা তার বেশি পুষ্টি উপাদান থাকা খাবার এবং নির্দিষ্ট ধরনের মিষ্টি পানীয়কে সতর্কীকরণ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ম আরও কঠোর করে নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি যে কোনও একটি উপাদান থাকলেও সতর্কীকরণ লেবেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
FSSAI-এর বক্তব্য, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল বিশেষ করে শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশের মানুষকে প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। তবে সব খাবারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। একক উপাদানে তৈরি এবং স্বাভাবিকভাবেই ফ্যাট, চিনি বা নুন বেশি থাকা পণ্য যেমন ঘি, ভোজ্য তেল, নুন, চিনি, গুড় ও মধু এই ফ্রন্ট-অফ-প্যাক সতর্কীকরণ থেকে ছাড় পাবে। অবশ্য অন্যান্য খাদ্য নিরাপত্তা ও লেবেল সংক্রান্ত নিয়ম তাদের ক্ষেত্রে বহাল থাকবে।
FSSAI-এর এই প্রস্তাব এসেছে সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নের প্রায় দু’সপ্তাহ পর। আগে প্যাকেটের সামনে সরাসরি সতর্কীকরণ লেবেল দেওয়ার বদলে দৈনিক সুপারিশকৃত সীমা দেখানোর একটি ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু আদালত সেই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন-এর বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, সাধারণ মানুষ যদি সহজে বুঝতেই না পারেন কোন খাবারে কতটা চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, তাহলে এমন লেবেলিং ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কী?
আদালতের আরও প্রশ্ন, খাদ্যশিল্পের চাপের কাছে FSSAI নতি স্বীকার করছে কি না। শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ। নাগরিকদের স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আদালত জানিয়েছিল, কর্তৃপক্ষ যথাযথ বিধি তৈরি না করলে প্রয়োজন হলে বিচারবিভাগীয় নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। সেই ভর্ৎসনার পরই এবার প্যাকেটজাত খাবারের সামনে স্পষ্ট, সহজবোধ্য এবং নজরকাড়া লাল সতর্কীকরণ চিহ্ন চালুর প্রস্তাব সামনে আনল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া।